বাগেরহাট ও মোংলায় কোথায় থাকবেন
১ অক্টোবর ২০২৬
ষাটগম্বুজ মসজিদ ও খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার দেখতে বাগেরহাট শহরে, আর সুন্দরবনে যেতে মোংলায় অনেকে রাত কাটান। নিচের ভাড়াগুলো সরকারি বুকিং ওয়েবসাইট hotels.gov.bd (অক্টোবর ২০২৬) এবং ভ্রমণ গাইড ওয়েবসাইটে (সেপ্টেম্বর ২০২৬) প্রকাশিত তথ্য থেকে নেওয়া; ভাড়া সময়ের সঙ্গে বদলায়, তাই যাওয়ার আগে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নিন।
বাগেরহাট শহর: সরকারি মোটেল
পর্যটন মোটেল অ্যান্ড ইয়ুথ ইন, বাগেরহাট (রনবিজয়পুর) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন পরিচালিত। hotels.gov.bd অনুযায়ী নন-এসি সিঙ্গেল বেড ১,৮০০ টাকা, নন-এসি ডাবল ও টুইন ২,৫০০ টাকা, এসি স্ট্যান্ডার্ড ডিলাক্স ও এসি টুইন ৩,০০০ টাকা এবং স্যুইট ৫,০০০ টাকা। ২৮ শয্যার ইয়ুথ ইন/ডরমিটরিও আছে (ভ্রমণ গাইডে ভাড়া ১,০০০ টাকা উল্লেখ)। বুকিং hotels.gov.bd-তে অনলাইনে করা যায়; যোগাযোগ ০১৭১২৪৪৯৫৫৩।
বাগেরহাট শহর: মাঝারি ও বাজেট হোটেল
হেরিটেজ স্টে (৩৭ কাজী নজরুল ইসলাম রোড): কাপল বেড ২,৩৫০ টাকা, টুইন বেড ৩,৭৫০ টাকা, ফ্যামিলি স্যুইট ৫,০০০ টাকা; এসি কক্ষ, ওয়াই-ফাই, লিফট ও পার্কিং আছে।
হোটেল আল-আমিন (কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, পিরোজপুর–বাগেরহাট মহাসড়ক): সিঙ্গেল নন-এসি ৫০০ টাকা, ডাবল ৮০০ টাকা, ডাবল এসি ১,২০০ টাকা। হোটেল অভি আবাসিক (খানজাহান আলী মাজার রোড): সিঙ্গেল নন-এসি ৫০০–৮০০ টাকা, ডাবল এসি ১,০০০–১,৫০০ টাকা। জারীফ হোটেল (মাজার মোড়, রণবিজয়পুর): ডাবল নন-এসি ৬০০–৯০০ টাকা, ডাবল এসি ১,২০০–১,৫০০ টাকা।
হোটেল মোহনা (কর্মকার পট্টি): সিঙ্গেল নন-এসি ৫০০–৭০০ টাকা। হোটেল মমতাজ (রেল রোড/স্টেশন রোড): সিঙ্গেল নন-এসি ৪০০–৭০০ টাকা। মোট কথা, শহরের বাজেট হোটেলে এক রাত সাধারণত ৪০০ থেকে ১,৫০০ টাকার মধ্যে।
মোংলা
পশুর নদীর দুই পাড়েই রাতে থাকার আবাসিক হোটেল আছে। মোংলা বাসস্ট্যান্ডের পাশে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হোটেল পশুর—hotels.gov.bd অনুযায়ী নন-এসি টুইন ২,৫০০ টাকা এবং এসি টুইন ও এসি কাপল ৩,৮০০ টাকা; সুবিধার তালিকায় কমপ্লিমেন্টারি নাশতা, ওয়াই-ফাই ও রেস্তোরাঁ আছে। ফোন: ০৪৬৬২-৭৫১০০, ০১৭৭৩০৪৪৪৭০, ০১৯৯১১৩৯০৩৬।
মোংলা উপজেলা পোর্টাল ও অনলাইন ডিরেক্টরিতে হোটেল হাবিব ইন্টারন্যাশনাল (মাদ্রাসা রোড), হোটেল সিঙ্গাপুর, হোটেল ব্যাংকক ও হোটেল টাইগারের মতো বেসরকারি হোটেলের নাম আছে, তবে এগুলোর হালনাগাদ ভাড়া নির্ভরযোগ্য উৎসে পাওয়া যায়নি। মোংলার দক্ষিণ চিলায় বাদাবন ইকো কটেজের মতো ইকো রিসোর্টও অনলাইনে তালিকাভুক্ত আছে।
অন্য উপজেলায়
রামপাল উপজেলা পোর্টাল অনুযায়ী সেখানে কোনো আবাসিক হোটেল নেই; জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় সাধারণ মানুষও নির্দিষ্ট ফি দিয়ে রাতে থাকতে পারেন। শরণখোলার রায়েন্দা বাজারে হোটেল পিংকি ও একটি ডাকবাংলো, ফকিরহাটের মূলঘরে মৌবন হোটেল এবং মোল্লাহাট, কচুয়া ও চিতলমারীতে সরকারি ডাকবাংলোর কথা সংশ্লিষ্ট উপজেলা পোর্টালে আছে। ডাকবাংলোতে থাকতে চাইলে আগে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
সুন্দরবনের ভেতরে রাত্রিযাপন
অনেক পর্যটক ট্যুর অপারেটরের নৌযানেই রাত কাটান। হিরণ পয়েন্টের নীলকমল, টাইগার পয়েন্টের কচিখালী ও কটকায় বন বিভাগের রেস্ট হাউস আছে; সেখানে থাকতে হলে আগে থেকে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে বুকিং দিতে হয়।
কিছু পরামর্শ
পর্যটন করপোরেশনের হোটেল-মোটেলে কক্ষ সংরক্ষণের জন্য অনলাইন বুকিং (hotels.gov.bd) ছাড়াও করপোরেশনের ২৪/৭ হটলাইন +৮৮ ০১৯৬৯৯১০২২২, +৮৮ ০২ ৪১০২৪২১৮ বা ই-মেইল [email protected]তে যোগাযোগ করা যায়।
অনলাইনে পাওয়া কোনো নম্বরে অগ্রিম টাকা পাঠানোর আগে হোটেলের পরিচয় ও ভাড়া যাচাই করে নিন। ভ্রমণ গাইডের পরামর্শ অনুযায়ী মানসম্মত সুবিধা চাইলে পর্যটন মোটেল, আধুনিক সুবিধা চাইলে হেরিটেজ স্টে, আর একদম কম খরচে থাকতে চাইলে শহরের বাজেট হোটেলগুলো বিবেচনা করা যায়।
বাগেরহাট সদর থেকে খুলনা বাস বা সিএনজিতে প্রায় এক ঘণ্টার পথ। তারকা মানের হোটেল চাইলে দিনে বাগেরহাট ঘুরে রাতে খুলনায় থাকার কথাও ভাবতে পারেন।
তথ্যসূত্র
parjatan.gov.bd, hotels.gov.bd, vromonguide.com, mongla.bagerhat.gov.bd, rampal.bagerhat.gov.bd, sarankhola.bagerhat.gov.bd, fakirhat.bagerhat.gov.bd, mollahat.bagerhat.gov.bd, kachua.bagerhat.gov.bd, chitalmari.bagerhat.gov.bd, htlbd.com