বাগেরহাটের রিয়েল স্টোরি

ছয়শো বছরের পুরনো খলিফাতাবাদ থেকে একাত্তর পর্যন্ত, বাগেরহাটের নয় উপজেলার সত্যি গল্প। প্রতিটি গল্পের নিচে তথ্যসূত্র আছে, আর কোনটা প্রমাণিত ইতিহাস আর কোনটা লোকমুখে প্রচলিত জনশ্রুতি, তা আলাদা করে লেখা।

বাগেরহাট সদর

৩৮টি গল্প
সমাধির পাথরে লেখা শেষ কথাখানজাহানের সমাধিবেদির পাথরই তাঁর সম্পর্কে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য দলিল। সেখানে তিনি নিজেকে বলেছেন বৃদ্ধ, দুর্বল এক প্রবাসী—আর লিখে রেখেছেন মৃত্যুর তারিখ।প্রমাণিত ইতিহাসখলিফাতাবাদ: খানজাহানের পরের টাকশাল-শহর আর মোগল ‘সরকার’খানজাহানের মৃত্যুর পরও খলিফাতাবাদ হারিয়ে যায়নি। সুলতানদের মুদ্রায় এর নাম উঠেছে, মোগল রাজস্বের খাতায় এটি ছিল আস্ত এক ‘সরকার’—আর বাগেরহাটের ‘দশানী’ নামেও হয়তো লুকিয়ে আছে সেই হিসাবের ছাপ।প্রমাণিত ইতিহাসপ্রতাপাদিত্য, ফিরিঙ্গি আর মগ: বারো ভূঁইয়ার যুগে বাগেরহাটষোড়শ-সপ্তদশ শতকে যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজ্য ছুঁয়ে ছিল আজকের বাগেরহাট; একই সময়ে পর্তুগিজ ‘ফিরিঙ্গি’ আর আরাকানি মগ জলদস্যুর হানায় উজাড় হয়েছিল দক্ষিণের বহু জনপদ। কোনটা প্রমাণিত, কোনটা জনশ্রুতি?ইতিহাস ও জনশ্রুতিভৈরবের বাঁকে বাঁকে: নদী, হাট আর নৌপথের বাগেরহাটএকসময় বাগেরহাটে চলাফেরা মানেই ছিল নৌকা। কলকাতাগামী ধানের জাহাজ, মোড়েলগঞ্জের বন্দর, স্টিমারের হুইসেল—মরে আসা ভৈরব আর বদলে যাওয়া নদীপথের গল্প।প্রমাণিত ইতিহাসপরগনা, কাচারি আর জমিদার: উনিশ শতকের বাগেরহাটের মালিক কারা ছিলেনচিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পর বাগেরহাটের জমি ভাগ হয়েছিল কয়েকটি পরগনায়, যাদের অনেক মালিক থাকতেন কলকাতায়। জমিদারের খেয়ালে হাট সরেছে, কাচারি বসেছে মূলঘর-যাত্রাপুরে—১৮৭১ সালের এক সরকারি প্রতিবেদনে সেই ছবি।প্রমাণিত ইতিহাসমহকুমা থেকে জেলা: বাগেরহাটের প্রশাসনিক জন্মকথা (১৮৬৩–১৯৮৪)১৮৬৩ সালে ভৈরবের তীরে এক টুকরো নিচু জঙ্গলে বসেছিল বাগেরহাট মহকুমার দপ্তর। ১২১ বছর পর, ১৯৮৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সেই মহকুমাই হয় জেলা। মাঝের পথটা ছিল কেমন?প্রমাণিত ইতিহাস১৮৬৩: যে সংঘর্ষের তদন্ত থেকে জন্ম নিল বাগেরহাট মহকুমা১৮৬১ সালের মোড়েল-রহিমুল্লাহ সংঘর্ষের তদন্ত করেছিলেন খুলনার তরুণ ম্যাজিস্ট্রেট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। জেলা প্রশাসনের ভাষ্যে, তাঁর সুপারিশেই ১৮৬৩ সালে বাগেরহাট মহকুমা হয়।প্রমাণিত ইতিহাসবাগেরহাট কলেজ থেকে পিসি কলেজ: আচার্যের নামে শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ১৯১৫ সালে কাড়াপাড়ার এক শিক্ষক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেছিলেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়। তিন বছর পর জন্ম নেয় বাগেরহাট কলেজ, যা ১৯৩৩ সালে তাঁর নামেই নতুন নাম পায়।প্রমাণিত ইতিহাসরূপসা–বাগেরহাট রেল: আশি বছরের এক ছোট ট্রেনের গল্প১৯১৮ সালের ১০ জুন রূপসার পূর্ব পাড় থেকে বাগেরহাটের পথে ছুটেছিল প্রথম ছোট লাইনের ট্রেন। আশি বছর পর লোকসানের কথা বলে বন্ধ হয় লাইন, ২০১২ সালে নিলামে ওঠে শেষ সম্পদটুকুও।প্রমাণিত ইতিহাসহালিমা খাতুন: একুশের ব্যারিকেডের নিচ দিয়ে১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে যে কয়েকজন ছাত্রী প্রথমে ব্যারিকেড পেরিয়েছিলেন, বাগেরহাটের মেয়ে হালিমা খাতুন তাঁদের একজন। পরে তিনি হয়েছিলেন শিক্ষাবিদ ও শিশুসাহিত্যিক।প্রমাণিত ইতিহাসঅধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন: পিসি কলেজের শিক্ষক, একাত্তরের শহীদঅর্থনীতির অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন একাত্তরে গ্রামের তরুণদের সংগঠিত করেছিলেন। ২৮ অক্টোবর রাতে নৌকায় বাড়ি ফেরার পথে গুলিতে নিহত হন তিনি।প্রমাণিত ইতিহাসএকাত্তরের বাগেরহাট শহর: ২৪ এপ্রিল থেকে ১৭ ডিসেম্বরখুলনার পতনের পরও এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত মুক্ত ছিল বাগেরহাট। এরপর দড়াটানার তীরের ডাকবাংলো হয়ে ওঠে নির্যাতনকেন্দ্র; শহর মুক্ত হয় ১৭ ডিসেম্বর সকালে।প্রমাণিত ইতিহাসএকাত্তরের বাগেরহাট: নবম সেক্টর, গণহত্যা আর ১৭ ডিসেম্বরমুক্তিযুদ্ধে বাগেরহাট ছিল ৯ নম্বর সেক্টরে। এপ্রিল থেকে জেলাজুড়ে গণহত্যা, সুন্দরবনে গেরিলা ঘাঁটি, মোংলায় নৌ-কমান্ডো অভিযান—আর বিজয়ের পরদিন, ১৭ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় বাগেরহাট।প্রমাণিত ইতিহাসখেতাবের আলোয় বাগেরহাটের চার মুক্তিযোদ্ধাবাগেরহাটের মাটির চার সন্তান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য রাষ্ট্রীয় খেতাব পেয়েছেন—একজন বীর উত্তম, একজন বীর বিক্রম, দুজন বীর প্রতীক। কেউ লড়েছেন সিলেটে, কেউ যশোর সীমান্তে, কেউ মোংলার নৌ-অভিযানে।প্রমাণিত ইতিহাসট্রাইব্যুনালের রায়ে একাত্তরের বাগেরহাটরনজিতপুর, ডাকরা, কান্দাপাড়া, শাখারীকাঠি—একাত্তরে বাগেরহাটের এসব হত্যাযজ্ঞের বিচার হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। ২০১৫ সালের রায় কী বলেছিল, পরে কী হলো?প্রমাণিত ইতিহাসরণজিৎপুর, কান্দাপাড়া, চুলকাঠি: একাত্তরের তিন হত্যাযজ্ঞ ও চুয়াল্লিশ বছর পরের রায়১৩ মে রণজিৎপুরে ৪০–৫০ জন, ১৮ জুন কান্দাপাড়ায় ১৯ জন, ১৪ অক্টোবর চুলকাঠিতে ৭ জন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ২০১৫ সালের রায়ে এসব হত্যাকাণ্ডের বিবরণ নথিভুক্ত।প্রমাণিত ইতিহাসরফিক বাহিনী: দড়াটানার ওপারে এগারো জন থেকে পাঁচ শ যোদ্ধাছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা রফিকুল ইসলাম খোকনের নেতৃত্বে বিষ্ণুপুরে গড়ে ওঠা রফিক বাহিনী ছিল একাত্তরে বাগেরহাটের সবচেয়ে আলোচিত আঞ্চলিক প্রতিরোধ বাহিনীগুলোর একটি।প্রমাণিত ইতিহাসবৈটপুরের দুই কবি: মোহাম্মদ রফিক ও আবুবকর সিদ্দিকবাগেরহাট সদরের বৈটপুর গ্রামের শিকড় থেকে উঠে এসেছেন বাংলা কবিতার দুই উল্লেখযোগ্য নাম। একজন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লিখেছিলেন ‘খোলা কবিতা’, অন্যজন চার দশকে লিখেছেন আঠারোটি কাব্যগ্রন্থ।প্রমাণিত ইতিহাসইট খাড়া করে গাঁথা খানজাহানের রাস্তাদেড়শ বছর আগে এক ইংরেজ কর্মকর্তা অবাক হয়ে লিখেছিলেন, চারশ বছর কোনো মেরামত ছাড়াই বাগেরহাটের একটি ইটের রাস্তা তখনো ব্যবহার হচ্ছে। খানজাহানের রাস্তার নির্মাণকৌশল আর চট্টগ্রাম পর্যন্ত রাস্তার কিংবদন্তি।ইতিহাস ও জনশ্রুতিকালাপাহাড়-ধলাপাহাড়: মাজারের দিঘির কুমিরখানজাহান নাকি নিজেই দুটি কুমির ছেড়েছিলেন দিঘিতে। দেড়শ বছরের লিখিত ইতিহাসে সেই কিংবদন্তির কুমিরদের উত্থান-পতন, ভারত থেকে নতুন কুমির আনা, আর ২০২৬ সালের এক মর্মান্তিক ঘটনা।ইতিহাস ও জনশ্রুতিকোদলা মঠ: সভাকবির স্মৃতিস্তম্ভ, নাকি তারকব্রহ্মের উদ্দেশে এক ব্রাহ্মণের নিবেদন?ভৈরবের পুবপাড়ে প্রায় ১৮ মিটার উঁচু পোড়ামাটির মঠ। কে বানিয়েছিলেন? ক্ষয়ে যাওয়া শিলালিপি বলছে এক ব্রাহ্মণের কথা, আর জনশ্রুতি শোনায় রাজা প্রতাপাদিত্য ও তাঁর সভাকবির গল্প।ইতিহাস ও জনশ্রুতিখানজাহান আসলে কে ছিলেন?যাঁকে আমরা ‘খানজাহান আলী’ নামে চিনি, তাঁর সমাধিলিপিতে ‘আলী’ শব্দটিই নেই। ইতিহাস তাঁর সম্পর্কে কতটুকু জানে, আর কতটুকু গড়ে উঠেছে মানুষের মুখে মুখে?ইতিহাস ও জনশ্রুতিঘোড়া দিঘি: এক ঘোড়ার দৌড়ে মাপা দিঘিষাট গম্বুজের পেছনের বিশাল দিঘিটি নাকি ততটাই লম্বা, যতদূর একটি ঘোড়া না থেমে দৌড়াতে পেরেছিল। খানজাহানের শহরের পানির গল্প, আর ৩৬০ দিঘির প্রবাদ।ইতিহাস ও জনশ্রুতিজিন্দাপীর: কবরের ভেতর থেকে কোরআন পাঠের জনশ্রুতি‘জিন্দা’ মানে জীবিত। খানজাহানের এক অনুচরের কবরকে লোকে বলে জীবিত পীরের মাজার—কারণ বিশ্বাস, তিনি আজও কবরের ভেতর কোরআন পড়ছেন।ইতিহাস ও জনশ্রুতিনাম ষাট গম্বুজ, অথচ গম্বুজ ৭৭ছাদে ৭৭টি গম্বুজ, মিনারসহ ৮১—তবু নাম ‘ষাট গম্বুজ’। নামের রহস্য নিয়ে পণ্ডিতদের অন্তত পাঁচটি মত আছে, আর ভবনটি মসজিদ না দরবার-ঘর, তা নিয়েও ছিল বিতর্ক।প্রমাণিত ইতিহাসপাথর এল কোথা থেকে? ভাসিয়ে আনার কিংবদন্তিপলিমাটির বাগেরহাটে পাথর নেই, অথচ ষাট গম্বুজের স্তম্ভ আর খানজাহানের সমাধি পাথরের। লোকে বলে, খানজাহান অলৌকিক ক্ষমতায় পাথর ভাসিয়ে এনেছিলেন। পুরোনো দলিল কী বলে?ইতিহাস ও জনশ্রুতিপীর আলী ও ‘পিরালী’ অপবাদের কাহিনিখানজাহানের সমাধির পাশে মুহম্মদ তাহিরের সমাধিবেদি। লোকে তাঁকে চেনে ‘পীর আলী’ নামে—যাঁর নাম জড়িয়ে আছে এক লেবুর ঘ্রাণ, এক ভোজসভা আর ঠাকুর পরিবারের ‘পিরালী’ পরিচয়ের সঙ্গে।ইতিহাস ও জনশ্রুতিবন কেটে শহর: খলিফাতাবাদের জন্মসুন্দরবনের জলা-জঙ্গল কেটে গড়ে ওঠা খলিফাতাবাদকে বলা হয় ‘টাকশাল নগরী’। কিন্তু এখানে মুদ্রা ছাপার প্রথম প্রমাণ খানজাহানের মৃত্যুর প্রায় ছয় দশক পরের।ইতিহাস ও জনশ্রুতিবাগেরহাট নামটি এল কোথা থেকে? বাঘ, বাগান আর নদীর বাঁকের হাটবাগেরহাট নামের পেছনে তিনটি গল্প চালু: বাঘের হাট, খানজাহানের বাগান আর ভৈরবের বাঁকের হাট। সরকারি নথিও স্বীকার করে, কোনোটিরই দলিল নেই; দলিলে আছে পুরোনো নাম খলিফাতাবাদ।ইতিহাস ও জনশ্রুতিবিবি বেগনী, সোনাবিবি আর বিষপুকুরঘোড়া দিঘির পাড়ের ছোট্ট মসজিদটি কি খানজাহানের প্রিয় স্ত্রীর নামে? পুরোনো লোককথায় আছে দুই স্ত্রী, এক বিষপুকুর আর এক করুণ মৃত্যু—আর ইতিহাসবিদদের সন্দেহ।ইতিহাস ও জনশ্রুতিভৈরব আর দড়াটানা: যে নদকে ঘিরে গড়ে উঠল শহরউত্তরে ভৈরব, দক্ষিণে দড়াটানা: একই জলধারার দুই নাম। এর বাঁকে বসা হাট থেকেই হয়তো শহরের নাম; আর আজ সেই নদ দখল-দূষণে ক্রমে সরু হচ্ছে।প্রমাণিত ইতিহাসমাটির নিচে খলিফাতাবাদ: খানজাহানের বসতভিটার খননষাট গম্বুজের ৩০০ মিটার উত্তরে এক ঢিবি খুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে ইটের রাস্তা, পোড়ামাটির পানির পাইপ, সেপটিক ট্যাংকসহ শৌচাগার আর চীনা পোরসেলিন। ছয়শ বছর আগের এক পরিকল্পিত শহরের সাক্ষ্য।প্রমাণিত ইতিহাসমিঠাপুকুর: লোনা মাটির শহরে মিঠা জল আর হারানো টাঁকশালের খোঁজবাগেরহাট শহরের মাঝখানে শালতলার মিঠাপুকুর আজও বহু মানুষের রান্না-গোসলের ভরসা। জেলা প্রশাসনের লেখা ইতিহাস বলছে, সুলতানি আমলের খলিফাতাবাদ টাঁকশাল সম্ভবত ছিল এই পুকুরের কাছেই।ইতিহাস ও জনশ্রুতিরণবিজয়পুর: যুদ্ধজয়ের নামে গ্রাম, দেশের সবচেয়ে বড় এক গম্বুজগ্রামের নামে ‘রণ’ আর ‘বিজয়’—কোন যুদ্ধের স্মৃতি, কেউ নিশ্চিত জানে না। তবে গ্রামের মসজিদটির গম্বুজ এক স্থাপত্য-বিজয়: বাংলাদেশের এক গম্বুজ মসজিদের মধ্যে সবচেয়ে বড়।ইতিহাস ও জনশ্রুতিসাধকের দিঘির নাম কেন ‘ঠাকুর দিঘি’?দিঘি কাটতে গিয়ে পানি ওঠে না; মাটির নিচে বেরোয় মন্দির আর ধ্যানমগ্ন সাধু—নাকি এক কালো পাথরের মূর্তি? খানজাহানের সমাধির সামনের দিঘির নামের পেছনে আছে তিনটি কিংবদন্তি।ইতিহাস ও জনশ্রুতিসাবেকডাঙ্গার রহস্য: মসজিদ, মন্দির না নিছক প্রার্থনাঘর?মিহরাব নেই, দরজা একটিমাত্র, ভেতরে পোড়ামাটির ফুল-লতা। সাবেকডাঙ্গার ছোট্ট ইমারতটিকে কেউ বলেন খানজাহানের নামাজঘর, কেউ বলেন হিন্দু ইমারত; প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বলছে, প্রশ্নটি এখনো অমীমাংসিত।ইতিহাস ও জনশ্রুতি৩৬০ বিঘায় পোঁতা ধন: খানজাহানের গুপ্তধনের কিংবদন্তিলোকে বিশ্বাস করত, খানজাহান ৩৬০ বিঘা জমিতে ধনরাশি পুঁতে রেখে গেছেন। সেই বিশ্বাসে কেউ দুজন মিলে চাষ করত না—আর ধনের লোভে খোঁড়া হয়েছে মসজিদের স্তম্ভ, মিহরাব, এমনকি সমাধির মেঝে।লোককথা / জনশ্রুতি৩৬০ মসজিদের শহর: কোথায় গেল সব?প্রবাদ বলে, খানজাহান ৩৬০টি মসজিদ বানিয়েছিলেন। আজ টিকে আছে হাতে গোনা কয়েকটি। বাকিগুলো হারিয়ে গেছে জঙ্গলে, লবণে, আর মানুষের ঘরবাড়ির দেয়ালে।ইতিহাস ও জনশ্রুতি

চিতলমারী

৫টি গল্প
নীলকুঠির পাথর থেকে বাঁধ কাটা: বাগেরহাটের কৃষক-জেলের প্রতিবাদমোড়েলগঞ্জের রহিমুল্লাহর লড়াই সবার জানা। কিন্তু চিতলমারীর নীলকুঠি, মোল্লাহাটের জেলেদের সুতার আন্দোলন আর শরণখোলার কৃষকদের বাঁধ কাটাও বাগেরহাটের প্রতিবাদের ইতিহাসের অংশ।প্রমাণিত ইতিহাসচিতল মাছের চিতলমারীজনশ্রুতি বলে, মধুমতি, চিত্রা ও বলেশ্বরের মিলনস্থলে জেলেরা এত চিতল মাছ ধরতেন যে জায়গার নামই হয়ে যায় চিতলমারী। নদীর তীরের চালের বাজার থেকে কীভাবে উপজেলা হলো, সেই গল্পও আছে।লোককথা / জনশ্রুতিঅশ্বিনী গোঁসাইয়ের গান আর গঙ্গাচন্নার সেবাশ্রমমতুয়া সংগীতের অন্যতম প্রধান রচয়িতা অশ্বিনী গোঁসাইয়ের স্মৃতিতে চিতলমারীর গঙ্গাচন্নায় গড়ে উঠেছে একটি সেবাশ্রম। চাষি থেকে সাধক-কবি হয়ে ওঠা এই মানুষটির গান আজও ভক্তদের কণ্ঠে।ইতিহাস ও জনশ্রুতিদশমহলের ২০ জুন: খলিশাখালী আর হোগলাবনভারতে যাওয়ার পথে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীতে ভরা দশমহলে ১৯৭১ সালের ২০ জুন চার দিক থেকে গানবোট আর স্থলপথে হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা। খলিশাখালী আর খড়মখালীর হোগলাবনে প্রাণ যায় বহু মানুষের।প্রমাণিত ইতিহাসনয় মাসের মুক্তাঞ্চল চিতলমারীবাগেরহাট শহর শত্রুর দখলে গেলেও চিতলমারী একাত্তরের প্রায় পুরো সময় মুক্তাঞ্চল ছিল। বাম ও আওয়ামী রাজনীতির কর্মী, স্থানীয় বাহিনী, গ্রামের নারীরা আর এক প্রবীণ জনপ্রতিনিধি মিলে গড়েছিলেন এই প্রতিরোধ।প্রমাণিত ইতিহাস

ফকিরহাট

৪টি গল্প
ফকির মঙ্গল শাহের আস্তানা থেকে ফকিরহাটজনশ্রুতি অনুযায়ী, ভৈরবের দক্ষিণ তীরে ফকির মঙ্গল শাহ নামে এক সাধকের আস্তানা ঘিরে দোকানপাট বসে, সেখান থেকেই হাট আর নাম ফকিরহাট। দলিলে পাওয়া ইতিহাস শুরু হয় ১৮৬৯ সালের থানা থেকে।ইতিহাস ও জনশ্রুতিমূলঘরের মেয়ে নীলিমা ইব্রাহিমফকিরহাটের মূলঘরের জমিদার পরিবারে জন্ম নেওয়া নীলিমা রায় চৌধুরী পরে হয়ে ওঠেন শিক্ষাবিদ, লেখক, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক। একাত্তরের বীরাঙ্গনাদের জবানি তিনিই পৌঁছে দিয়েছিলেন পাঠকের কাছে।প্রমাণিত ইতিহাসপিলজঙ্গের রাতভারতে প্রশিক্ষণ শেষে নিজ এলাকায় ফিরছিলেন মোল্লাহাটের একদল তরুণ মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ৪ অক্টোবর রাতে ফকিরহাটের পিলজঙ্গে রাজাকারদের ফাঁদে পড়ে প্রাণ দেন অন্তত ১৪ জন।প্রমাণিত ইতিহাসমানসার দুই রক্তাক্ত দিনএকাত্তরে ফকিরহাটের মানসায় দুবার রক্ত ঝরেছে: এপ্রিলে বাজারে গুলি চালিয়ে, আর পরে বেতন তুলতে আসা একদল স্কুলশিক্ষককে ধরে নিয়ে হত্যা করে।প্রমাণিত ইতিহাস

কচুয়া

৫টি গল্প
কচু রায়ের নামে কচুয়া?উপজেলার সরকারি তথ্য বাতায়ন বলছে, জমিদার কচু রায়ের নাম থেকে এসেছে কচুয়া। সেই জমিদারের কোনো দলিল মেলেনি; তবে জনপদের ইতিহাসের কিছু চিহ্ন বেশ পুরোনো।ইতিহাস ও জনশ্রুতিভাসা বাজার থেকে মঘিয়ার খালপাড়হাটবারে ভাসা বাজার থেকে ধরে নেওয়া মানুষদের সন্ধ্যায় মঘিয়ায় খালের পাড়ে হত্যা করে রাজাকাররা। নিহতের সংখ্যা নিয়ে সূত্রগুলোতে বড় ফারাক থাকলেও ১৫ জন শহীদের নাম লেখা আছে।প্রমাণিত ইতিহাসযে থানায় ঢুকতে পারেনি পাকিস্তানি সেনারাসেতুর পাটাতন খুলে আর স্থানীয় বাহিনী গড়ে কচুয়ার মানুষ পাকিস্তানি সেনাদের থানায় ঢুকতে দেননি। তবু রাজাকারদের হাতে এ জনপদ রক্ত দিয়েছে; ১৩ ডিসেম্বর কচুয়া মুক্ত হয়।প্রমাণিত ইতিহাসশাঁখারীকাঠির হাটে এক শুক্রবার১৯৭১ সালের ৫ নভেম্বর, হাটের দিনে কচুয়ার শাঁখারীকাঠি বাজার ঘিরে রাজাকাররা হিন্দু হাটুরেদের বেঁধে নিয়ে খালপাড়ে গুলি করে হত্যা করে। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ হত্যাকাণ্ডে সিরাজ মাস্টারকে দোষী সাব্যস্ত করে।প্রমাণিত ইতিহাসমঘিয়ার জমিদারবাড়ির কালীবাড়ি আর শিববাড়িলোকমুখে মঘিয়ার দুটি মন্দির খান জাহানের আমলের, কিন্তু প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর স্থাপত্যরীতি দেখে এগুলোকে সপ্তদশ শতকের বলছে। ২০২৬ সালে মন্দির দুটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষিত হয়, আর পাশের জমিদারবাড়ি ভাঙা থামে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে।ইতিহাস ও জনশ্রুতি

মোল্লাহাট

৩টি গল্প
তমিজ উদ্দিন মোল্লার বৈঠকখানা থেকে মোল্লাহাটউপজেলা প্রশাসনের লেখা ইতিহাস বলে, প্রভাবশালী হাজী তমিজ উদ্দিন মোল্লার বৈঠকখানায় বসেছিল পুলিশ ফাঁড়ি, তাকে ঘিরে জমে ওঠে হাট। নদী সরে যাওয়ায় সেই হাট আর থানা উঠে আসে মধুমতির চরে।ইতিহাস ও জনশ্রুতিচরকুলিয়ার সেতুযুদ্ধ: হাড়িদহ থেকে ওলিমদ্দি১৯৭১ সালের অক্টোবরে মোল্লাহাটের চরকুলিয়ায় দুটি সেতুর মুখে মুক্তিযোদ্ধাদের অ্যামবুশে বড় ক্ষতির মুখে পড়ে পাকিস্তানি বাহিনী। দুই মাস পর ১০ ডিসেম্বর রাজাকারদের আত্মসমর্পণে মোল্লাহাট মুক্ত হয়।প্রমাণিত ইতিহাসকুলিয়ার মসজিদ আর এক রাতের গল্পমোল্লাহাটের সবচেয়ে পুরোনো মসজিদ বলে পরিচিত কুলিয়ার এক গম্বুজ মসজিদ কে, কবে বানিয়েছেন, কেউ জানে না। মুরব্বিদের মুখে মুখে ফেরে, মসজিদটি নাকি এক রাতেই তৈরি হয়েছিল।ইতিহাস ও জনশ্রুতি

মোংলা

১০টি গল্প
জয়মনির ঘোল থেকে মোংলা: একটি বন্দরের জন্মকথা১৯৫০ সালের ডিসেম্বরে সুন্দরবনের ভেতরে পশুর নদীতে নোঙর ফেলেছিল একটি ব্রিটিশ জাহাজ। সেখান থেকে চালনা ঘুরে বন্দরটি কীভাবে শেলাবুনিয়া নামের এক অচেনা গ্রামে এসে ‘মোংলা’ হলো, এ তারই গল্প।প্রমাণিত ইতিহাসশেলাবুনিয়ার ফাদার রিগন: ইতালি থেকে আসা এক বাঙালিইতালির এক গ্রামে জন্ম, কিন্তু জীবনের প্রায় পুরোটা কেটেছে মোংলার শেলাবুনিয়ায়। রবীন্দ্রনাথকে ইতালীয় ভাষায় নিয়ে যাওয়া, একাত্তরে আহত মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা আর মৃত্যুর পর বাংলার মাটিতে ফেরার গল্প।প্রমাণিত ইতিহাসরুদ্রের মিঠেখালী: ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’-এর কবির শেকড়আশির দশকের কবিতার মঞ্চ কাঁপানো রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর শৈশব কেটেছে মোংলার মিঠেখালীতে। সেখানে তিনি গানের দল গড়েছেন, সেখানেই তিনি চিরঘুমে।প্রমাণিত ইতিহাসঅপারেশন জ্যাকপট: মোংলা বন্দরে নৌ-কমান্ডোদের রাতহাতে শুধু ছুরি, সঙ্গে লিমপেট মাইন। ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে একযোগে মোংলা বন্দরেও আঘাত হানে বাঙালি নৌ-কমান্ডোরা।প্রমাণিত ইতিহাসকরমজলের জুলিয়েট: লোনাপানির কুমির আর বাটাগুর কচ্ছপের গল্পমোংলা থেকে সুন্দরবনে ঢুকলে অনেকের প্রথম গন্তব্য করমজল। খাঁচা আর পুকুরের ওপারে এখানে চলছে বিপন্ন কুমির ও কচ্ছপ বাঁচানোর দীর্ঘ চেষ্টা, যার সাফল্যও আছে, ব্যর্থতাও।প্রমাণিত ইতিহাসশেলা নদীর কালো ডিসেম্বর আর ঘষিয়াখালী চ্যানেলের ফিরে আসাএকটি নৌপথ ভরাট হয়ে যাওয়ায় জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছিল সুন্দরবনের ভেতরের নদী দিয়ে। ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর শেলা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকারডুবি সেই ঝুঁকিকে নির্মম বাস্তব করে তোলে।প্রমাণিত ইতিহাসবনদস্যুর ছায়া থেকে আত্মসমর্পণ: মোংলায় শুরু হওয়া এক অধ্যায়জেলে, বাওয়ালি আর মৌয়ালদের অপহরণ ও মুক্তিপণের আতঙ্ক ছিল সুন্দরবনের পুরোনো বাস্তবতা। ২০১৬ সালে মোংলায় একটি দস্যুবাহিনীর আত্মসমর্পণ দিয়ে শুরু হওয়া প্রক্রিয়া, ২০১৮ সালের ‘দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা আর তার পরের গল্প।প্রমাণিত ইতিহাসবনবিবি, দক্ষিণ রায় আর দুখে: আঠারো ভাটির দেশের রক্ষাকর্ত্রীবাঘের রাজ্যে ঢোকার আগে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সুন্দরবনের মানুষ যাঁকে স্মরণ করেন, সেই বনবিবির কাহিনি: দক্ষিণ রায়ের সঙ্গে লড়াই, অনাথ দুখের উদ্ধার আর ‘জহুরানামা’ পুথির গল্প।লোককথা / জনশ্রুতিবাওয়ালির টোঙে পুথির আসর: বাঘ-বাঁধা মন্ত্রের লোকবিশ্বাসমাটি থেকে ছয় ফুট উঁচু টোঙে রাত কাটানো কাঠুরে, বাঘ ‘বেঁধে’ রাখার মন্ত্র জানা বাউলে আর সন্ধ্যার পুথিপাঠ: সুন্দরবনের বনজীবীদের বিশ্বাস ও বাস্তবতার গল্প।ইতিহাস ও জনশ্রুতিবাঘের পিঠে গাজী: গাজী, কালু ও চম্পাবতীর কিংবদন্তিরাজপুত্র থেকে ফকির, বাঘের বাহিনী নিয়ে যুদ্ধ, রাজকন্যা চম্পাবতী: সুন্দরবনের বাওয়ালি-জেলেরা যে গাজীর দোহাই দেন, তাঁর কাহিনি কোথা থেকে এল আর তার কতটা ইতিহাস।লোককথা / জনশ্রুতি

মোরেলগঞ্জ

৮টি গল্প
বন কেটে আবাদ: বাঘ, নলখাগড়া আর ঝড়ের সঙ্গে লড়াইদেড় শ বছর আগে মোরেলগঞ্জ-শরণখোলার মাটি ছিল ঘন সুন্দরবন। লোহার খাঁচায় বসে মানুষখেকো বাঘ শিকার, এক বছর অবহেলায় ফিরে আসা নলবন আর ১৮৬৯ সালের ঝড়—সমকালীন সরকারি প্রতিবেদনে আবাদের কঠিন দিনগুলোর ছবি।প্রমাণিত ইতিহাসসরালিয়া থেকে মোরেলগঞ্জ: এক ইংরেজ পরিবারের আবাদ ও নামকরণপানগুছির পাড়ের গ্রামটির নাম ছিল সরালিয়া। ১৮৪৯ সালে এক ইংরেজ নারী ছেলেদের নামে সুন্দরবনের লাট বন্দোবস্ত নেওয়ার পর জঙ্গল কেটে গড়ে ওঠে বাজার—নাম হয় মোরেলগঞ্জ। আর ‘নীলকুঠি’ নিয়ে প্রচলিত ধারণা কতটা ঠিক?প্রমাণিত ইতিহাসডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বঙ্কিমচন্দ্র ও মোরেলগঞ্জ মামলাবারইখালীর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নৌকায় মোরেলগঞ্জে ছুটে গিয়েছিলেন খুলনার তরুণ মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। লাখ টাকার ঘুষের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া, বৃন্দাবন ও বোম্বাই থেকে আসামি ধরা, আর শেষে হেলির খালাস—মামলার আদ্যোপান্ত।প্রমাণিত ইতিহাসবারইখালীর রহিমুল্লাহ: মোরেলদের লাঠিয়ালের বিরুদ্ধে এক রাতের লড়াই১৮৬১ সালের নভেম্বরে বারইখালীর কৃষক রহিমুল্লাহ মোরেল জমিদারির ম্যানেজার ডেনিস হেলির লাঠিয়াল-বন্দুকধারীদের বিরুদ্ধে সারা রাত লড়ে প্রাণ দেন। দক্ষিণ বাংলার কৃষক-প্রতিরোধের এই অধ্যায় নিয়ে যা দলিলে আছে, আর যা কেবল লোকমুখে।প্রমাণিত ইতিহাসবন্দরের স্বপ্ন থেকে ‘ছোট কলকাতা’: মোরেলগঞ্জের হাট, জাহাজ আর জমিদারি বদলএক ইংরেজ কর্মকর্তা ভেবেছিলেন, মোরেলগঞ্জ একদিন হবে সুন্দরবনের ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’। ১৮৬৯ সালে বন্দর ঘোষণা, হাটবারে নৌকার ভিড়, মিঠা পানির শেষ ঘাট—তারপর মোরেলদের জমিদারি হাতবদল আর পানগুছির ভাঙন।প্রমাণিত ইতিহাসএকাত্তরের মোরেলগঞ্জ: বেতবুনিয়া থেকে রাজাপুর, ধ্বংস আর প্রতিরোধমে মাসের কয়েক সপ্তাহে বেতবুনিয়া, মোরেলগঞ্জ বাজার, মহিষপুরা, লক্ষ্মীখালী আর তেলিগাতীতে প্রাণ হারান কয়েক শ মানুষ। তার জবাবে সুন্দরবনঘেঁষা এই জনপদের তরুণেরা গড়ে তোলেন প্রতিরোধ; ১৩ ডিসেম্বর মোরেলগঞ্জ হানাদারমুক্ত হয়।প্রমাণিত ইতিহাসফকিরের তাকিয়া: কালাচাঁদ ফকির ও বারইখালীর অগ্রহায়ণের মেলামোরেল সাহেবরা আসার বহু আগে বারইখালীর জঙ্গলে আস্তানা গেড়েছিলেন কালাচাঁদ ফকির। তাঁর নামে আজও প্রতি ২৫ অগ্রহায়ণ মেলা বসে, আর লোকমুখে ফেরে বাঘের পিঠে চড়া, আগুনে না-পোড়া চাদর আর এক রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণীর গল্প।ইতিহাস ও জনশ্রুতিলক্ষ্মীখালীর গোপাল সাধু ও কামনা সাগরের বারুণী স্নানসুন্দরবনের কোলের এক গ্রামে জন্মেছিলেন মতুয়া সাধক গোপালচাঁদ। তাঁর দানে ছাপা হয়েছিল হরিচাঁদ ঠাকুরের জীবনকাব্য, তাঁর বাড়িতে আজও লাখো ভক্ত বারুণী স্নানে আসেন—আর ১৯৭১ সালে এই আশ্রয়স্থলেই ঘটেছিল এক নির্মম গণহত্যা।ইতিহাস ও জনশ্রুতি

রামপাল

৩টি গল্প
বন কেটে আবাদ: সুন্দরবনের কোলে দক্ষিণ বাগেরহাটের জন্মরামপাল, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলার আজকের ধানখেত দুই শ বছর আগেও ছিল বাঘের জঙ্গল। ইংরেজ আমলের ‘আবাদ’ কীভাবে দক্ষিণ বাগেরহাট গড়ল, আর বসতকারদের কী দাম দিতে হয়েছিল?ইতিহাস ও জনশ্রুতিডাকরার কালীবাড়ি: ২১ মে ১৯৭১ভারতে যাওয়ার আশায় রামপালের ডাকরা গ্রামের কালী মন্দিরে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো মানুষ। ১৯৭১ সালের ২১ মে দুপুরে সেখানে যে হত্যাযজ্ঞ চলে, তা রামপালের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়।প্রমাণিত ইতিহাসমোংলা আর রামপাল: নাম এল কোথা থেকে?একটির নাম কি নদী থেকে, নাকি ‘মঙ্গল রাজা’ থেকে? আরেকটির নাম কি ‘রাম’ নামের এক পাল-বংশীয় মানুষের নামে? দুই প্রতিবেশী উপজেলার নামের পেছনের দলিল আর জনশ্রুতি পাশাপাশি।ইতিহাস ও জনশ্রুতি

শরণখোলা

৬টি গল্প
খানজাহানের আগের বাগেরহাট: লবণের চুল্লি, ইটের ঘাট আর হারানো বসতিখানজাহান আলী আসার বহু আগেও সুন্দরবনের কোলে মানুষ লবণ জ্বাল দিত, ইটের ঘাট বাঁধত। কটকার ডুবে যাওয়া চুল্লি আর পুরোনো নথি সেই হারানো বসতির কথা বলে।ইতিহাস ও জনশ্রুতিবলেশ্বরের পাড়ে রায়েন্দা: বন কেটে গড়া জনপদ, বাঁধ কাটার বিদ্রোহ‘শক্তির অধিপতি’ বলেশ্বরের তীরে বরিশাল থেকে আসা মানুষেরা বন কেটে গড়েছিলেন শরণখোলা। তার প্রাণকেন্দ্র রায়েন্দা বাজার দেখেছে ১৯৬৯ সালের বাঁধ কাটার কৃষক-বিদ্রোহ, ভাসানীর জনসভা আর নদীভাঙনে বগী বন্দরের হারিয়ে যাওয়া।প্রমাণিত ইতিহাসদুবলার চরের রাস: হরিভজনের পূজা থেকে সাগরতীরের উৎসবকার্তিকের রাস পূর্ণিমায় সুন্দরবনের শেষ প্রান্তে সাগরের প্রথম জোয়ারে পুণ্যস্নান। কে শুরু করেছিলেন এই উৎসব, কেন মন্দিরে রাধাকৃষ্ণের পাশে বনবিবি আর গাজী-কালু, আর কেন এখন আর মেলা বসে না।ইতিহাস ও জনশ্রুতিএকাত্তরের শরণখোলা: কাঠের রাইফেল, রায়েন্দা ক্যাম্প আর বগীর লড়াইবাঁশের লাঠি আর কাঠমিস্ত্রির বানানো কাঠের রাইফেলে শুরু হয়েছিল শরণখোলার প্রস্তুতি। রায়েন্দা ক্যাম্পে হামলা, বগী-গাবতলার রক্তাক্ত দিন, আর বিজয় দিবসের দুই দিন পর—১৮ ডিসেম্বর—শরণখোলার পূর্ণ মুক্তি।প্রমাণিত ইতিহাসসিডরের রাত: শরণখোলা, সাউথখালী আর টেকসই বাঁধের অপেক্ষা২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের রাতে সিডরের জলোচ্ছ্বাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারায় বাগেরহাটের শরণখোলা, বিশেষ করে সাউথখালী। কত মানুষ মারা গিয়েছিলেন, কীভাবে আবার ঘর উঠল, আর কেন মানুষ বলেন ‘ত্রাণ নয়, বাঁধ চাই’।প্রমাণিত ইতিহাসবাঘ, বনবিবি আর মধুর মৌসুম: শরণখোলার বনজীবীদের গল্পশরণখোলার মানুষের জীবিকা বাঁধা সুন্দরবনের সঙ্গে—মাছ, গোলপাতা, কাঠ আর মধু। এক শ বছর আগের ফকিরের বাঘ-বন্ধনের আচার থেকে বনবিবির কিংবদন্তি, আর আজকের মৌয়ালদের বনদস্যু-আতঙ্ক পর্যন্ত বনজীবীদের ভয় ও বিশ্বাসের গল্প।ইতিহাস ও জনশ্রুতি