তথ্য দ্য ডেইলি স্টারের ফিচার (তাঁর স্মৃতিকথার ভিত্তিতে), বিডিনিউজ২৪ ও উইকিপিডিয়া থেকে। জন্মগ্রামের নাম সূত্রে পাওয়া যায়নি।
হালিমা খাতুনের জন্ম ১৯৩৩ সালের ২৫ আগস্ট, বাগেরহাটে। বিডিনিউজ২৪ জানায়, তাঁর বাবা মৌলভী আবদুর রহিম শেখ, মা দৌলতুন্নেসা। দ্য ডেইলি স্টারের এক ফিচার অনুযায়ী তিনি ছিলেন বারো ভাইবোনের মধ্যে অষ্টম, বাবা ছিলেন স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক। প্রত্যন্ত যে গ্রামে তিনি বড় হয়েছেন, সেখানে মুসলমান মেয়েদের একা স্কুলে যাওয়ার বিরুদ্ধে প্রচারণাও চলত। স্নাতক পর্যায়ে পিসি কলেজের উচ্চতর বাংলা ক্লাসে তিনিই ছিলেন একমাত্র ছাত্রী। ১৯৪৯ সালের শেষ দিকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর পড়তে যান।
১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-মিছিল নিষিদ্ধ করে। সে রাতে নাদেরা বেগমের বাসায় হালিমা খাতুনকে দায়িত্ব দেওয়া হয় পরদিন আমতলার সভায় ছাত্রীনিবাসের মেয়েদের নিয়ে আসার; নাদেরা বেগমের নামে তখন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তিনি নিজে তা পারছিলেন না। মিটফোর্ড মেডিকেল স্কুল, মুসলিম গার্লস স্কুল আর বাংলাবাজার গার্লস স্কুলের ছাত্রীদের একত্র করার দায়িত্বও পড়ে তাঁর ওপর।
২১ ফেব্রুয়ারি আমতলার সভায় ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়, মিছিলের সামনে থাকেন মেয়েরা। ডেইলি স্টারের বিবরণে, কলা ভবনের ব্যারিকেড প্রথম যাঁরা পেরোন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন সুফিয়া ইব্রাহিম, শাফিয়া খাতুন, রওশন আরা বাচ্চু ও হালিমা খাতুন। শাফিয়া খাতুন ব্যারিকেড টপকে যান, হালিমা খাতুন যান তার নিচ দিয়ে। কাঁদানে গ্যাস, লাঠিপেটা, তারপর গুলি—আজ যেখানে শহীদ মিনার, সেখানকার রাস্তা রক্তে ভেসে যায়। এরপরের দিনগুলোতে তিনি আহতদের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন; বিডিনিউজ২৪ জানায়, নিহত ও আহতদের ছবি সংবাদপত্রে পাঠানোর কাজও করেছিলেন।
পরে তিনি খুলনা করোনেশন স্কুল ও আরকে গার্লস কলেজে পড়ান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে যোগ দিয়ে ১৯৯৭ সালে অধ্যাপক হিসেবে অবসর নেন। ১৯৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্দার্ন কলোরাডো থেকে শিক্ষায় পিএইচডি করেন। প্রায় এক শ বই লিখেছেন, ১৯৮১ সালে পান বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। ২০১৮ সালের ৩ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়; উইকিপিডিয়া অনুযায়ী ২০১৯ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়।