হালিমা খাতুন: একুশের ব্যারিকেডের নিচ দিয়ে

প্রমাণিত ইতিহাসপাকিস্তান আমল১৯৫২বাগেরহাট (জন্মস্থান); ঢাকা

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে যে কয়েকজন ছাত্রী প্রথমে ব্যারিকেড পেরিয়েছিলেন, বাগেরহাটের মেয়ে হালিমা খাতুন তাঁদের একজন। পরে তিনি হয়েছিলেন শিক্ষাবিদ ও শিশুসাহিত্যিক।

তথ্য দ্য ডেইলি স্টারের ফিচার (তাঁর স্মৃতিকথার ভিত্তিতে), বিডিনিউজ২৪ ও উইকিপিডিয়া থেকে। জন্মগ্রামের নাম সূত্রে পাওয়া যায়নি।

হালিমা খাতুনের জন্ম ১৯৩৩ সালের ২৫ আগস্ট, বাগেরহাটে। বিডিনিউজ২৪ জানায়, তাঁর বাবা মৌলভী আবদুর রহিম শেখ, মা দৌলতুন্নেসা। দ্য ডেইলি স্টারের এক ফিচার অনুযায়ী তিনি ছিলেন বারো ভাইবোনের মধ্যে অষ্টম, বাবা ছিলেন স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক। প্রত্যন্ত যে গ্রামে তিনি বড় হয়েছেন, সেখানে মুসলমান মেয়েদের একা স্কুলে যাওয়ার বিরুদ্ধে প্রচারণাও চলত। স্নাতক পর্যায়ে পিসি কলেজের উচ্চতর বাংলা ক্লাসে তিনিই ছিলেন একমাত্র ছাত্রী। ১৯৪৯ সালের শেষ দিকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর পড়তে যান।

১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-মিছিল নিষিদ্ধ করে। সে রাতে নাদেরা বেগমের বাসায় হালিমা খাতুনকে দায়িত্ব দেওয়া হয় পরদিন আমতলার সভায় ছাত্রীনিবাসের মেয়েদের নিয়ে আসার; নাদেরা বেগমের নামে তখন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তিনি নিজে তা পারছিলেন না। মিটফোর্ড মেডিকেল স্কুল, মুসলিম গার্লস স্কুল আর বাংলাবাজার গার্লস স্কুলের ছাত্রীদের একত্র করার দায়িত্বও পড়ে তাঁর ওপর।

২১ ফেব্রুয়ারি আমতলার সভায় ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়, মিছিলের সামনে থাকেন মেয়েরা। ডেইলি স্টারের বিবরণে, কলা ভবনের ব্যারিকেড প্রথম যাঁরা পেরোন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন সুফিয়া ইব্রাহিম, শাফিয়া খাতুন, রওশন আরা বাচ্চু ও হালিমা খাতুন। শাফিয়া খাতুন ব্যারিকেড টপকে যান, হালিমা খাতুন যান তার নিচ দিয়ে। কাঁদানে গ্যাস, লাঠিপেটা, তারপর গুলি—আজ যেখানে শহীদ মিনার, সেখানকার রাস্তা রক্তে ভেসে যায়। এরপরের দিনগুলোতে তিনি আহতদের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন; বিডিনিউজ২৪ জানায়, নিহত ও আহতদের ছবি সংবাদপত্রে পাঠানোর কাজও করেছিলেন।

পরে তিনি খুলনা করোনেশন স্কুল ও আরকে গার্লস কলেজে পড়ান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে যোগ দিয়ে ১৯৯৭ সালে অধ্যাপক হিসেবে অবসর নেন। ১৯৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্দার্ন কলোরাডো থেকে শিক্ষায় পিএইচডি করেন। প্রায় এক শ বই লিখেছেন, ১৯৮১ সালে পান বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। ২০১৮ সালের ৩ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়; উইকিপিডিয়া অনুযায়ী ২০১৯ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র

  1. Halima Khatun: On the frontline (Shuprova Tasneem) · দ্য ডেইলি স্টার, ২০২০
  2. Language Movement activist Halima Khatun dies at 86 · বিডিনিউজ২৪, ২০১৮
  3. Halima Khatun · উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), ২০২৬

কোনো তথ্য ভুল মনে হলে বা আরও ভালো সূত্র জানা থাকলে নিচে জানান; যাচাই করে ঠিক করা হবে।

বাগেরহাট সদর-এর আরও গল্প

সব দেখুন
সমাধির পাথরে লেখা শেষ কথাখানজাহানের সমাধিবেদির পাথরই তাঁর সম্পর্কে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য দলিল। সেখানে তিনি নিজেকে বলেছেন বৃদ্ধ, দুর্বল এক প্রবাসী—আর লিখে রেখেছেন মৃত্যুর তারিখ।প্রমাণিত ইতিহাসখলিফাতাবাদ: খানজাহানের পরের টাকশাল-শহর আর মোগল ‘সরকার’খানজাহানের মৃত্যুর পরও খলিফাতাবাদ হারিয়ে যায়নি। সুলতানদের মুদ্রায় এর নাম উঠেছে, মোগল রাজস্বের খাতায় এটি ছিল আস্ত এক ‘সরকার’—আর বাগেরহাটের ‘দশানী’ নামেও হয়তো লুকিয়ে আছে সেই হিসাবের ছাপ।প্রমাণিত ইতিহাসপ্রতাপাদিত্য, ফিরিঙ্গি আর মগ: বারো ভূঁইয়ার যুগে বাগেরহাটষোড়শ-সপ্তদশ শতকে যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজ্য ছুঁয়ে ছিল আজকের বাগেরহাট; একই সময়ে পর্তুগিজ ‘ফিরিঙ্গি’ আর আরাকানি মগ জলদস্যুর হানায় উজাড় হয়েছিল দক্ষিণের বহু জনপদ। কোনটা প্রমাণিত, কোনটা জনশ্রুতি?ইতিহাস ও জনশ্রুতিভৈরবের বাঁকে বাঁকে: নদী, হাট আর নৌপথের বাগেরহাটএকসময় বাগেরহাটে চলাফেরা মানেই ছিল নৌকা। কলকাতাগামী ধানের জাহাজ, মোড়েলগঞ্জের বন্দর, স্টিমারের হুইসেল—মরে আসা ভৈরব আর বদলে যাওয়া নদীপথের গল্প।প্রমাণিত ইতিহাস