তমিজ উদ্দিন মোল্লা ও গাড়ফার ইমামের গল্প দুটিই জনশ্রুতি। কালেক্টরের আগমন (১৮২০), ফাঁড়ির গুরুত্ব বৃদ্ধি (১৮৩২) ও স্থানান্তর (১৮৫৭) উপজেলা বাতায়নে ‘সম্ভবত’ বলে লেখা। ১৮৬৭ সালে থানা প্রতিষ্ঠার তথ্য বাংলাপিডিয়া ও থানার নথির সূত্রে।
মোল্লাহাট উপজেলার মানচিত্রে ‘মোল্লাহাট’ নামে কোনো মৌজা নেই। মজার এই তথ্যটি দিয়েছে উপজেলা তথ্য বাতায়ন নিজেই। তাহলে নামটা এল কোথা থেকে? বাতায়ন স্বীকার করে, নামকরণ নিয়ে বিশেষ কোনো লিখিত তথ্য নেই; যা আছে, তা এলাকার মুরব্বিদের মুখে শোনা গল্প।
সেই গল্পের কেন্দ্রে হাজী মুহাম্মদ তমিজ উদ্দিন মোল্লা। লোকমুখে তাঁকে বর্ণনা করা হয় প্রভাবশালী, ধনী ও দাম্ভিক এক মানুষ হিসেবে, যাঁর দাপটে নাকি বাঘ-মহিষ এক ঘাটে জল খেত আর হুংকারে কাঁপত সাত গ্রাম। বাতায়নের বিবরণ অনুযায়ী, সম্ভবত ১৮২০ সালের দিকে যশোরের তৎকালীন কালেক্টর নদীপথে এসে তমিজ উদ্দিন মোল্লার ঘাটে নামেন এবং তাঁর বৈঠকখানায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি বসানোর সিদ্ধান্ত নেন; বাগেরহাট থেকে ২৬ মাইল দূরের এই এলাকা শাসন করা তখন কঠিন ছিল। সম্ভবত ১৮৩২ সালের দিকে ফাঁড়ির গুরুত্ব বাড়ে, তাকে ঘিরে দোকানপাট আর কেনাবেচার কেন্দ্র গড়ে ওঠে। মোল্লার বৈঠকখানা ঘিরে জমে ওঠা এই হাটই পরিচিত হয় ‘মোল্লাহাট’ নামে।
এরপর নদী গল্পের মোড় ঘোরায়। নালুয়া নদীর স্রোত কমে যাওয়ায় যোগাযোগ কঠিন হয়ে পড়ে, হাটুরেদের আসা কমে যায়। অন্যদিকে খরস্রোতা মধুমতির বুকে জাগে চর। বাতায়নের ভাষ্যে, সম্ভবত ১৮৫৭ সালে ফাঁড়ি আর হাট উঠে আসে মধুমতির চরে, আর থানার নথি অনুযায়ী ১৮৬৭ সালে সেখানে পুলিশ স্টেশন স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়; বাংলাপিডিয়াও মোল্লাহাট থানা গঠনের সাল ১৮৬৭ লিখেছে। এখনকার উপজেলা ভবনের আশপাশ আজও ‘চরপাড়া’ নামে পরিচিত, আর কাহালপুর মৌজায় পুরোনো ফাঁড়ির জরাজীর্ণ ধ্বংসাবশেষের আশপাশের বাড়িগুলোকে অনেকে বলেন ‘হাটখোলার বাড়ি’। ১৯৮৩ সালের ২ জুলাই মোল্লাহাট উপজেলা হয়।
নামের আরেকটি ব্যাখ্যাও চালু আছে। বাংলা উইকিপিডিয়ায় বলা হয়েছে, আঠারো শতকের শেষ দিকে গাড়ফা গ্রামে এক ইমাম, যাঁকে স্থানীয়রা ‘মোল্লা সাহেব’ বলতেন, একটি দোকানঘর দেন; সেখানে হাট বসলে নাম হয় ‘মোল্লারহাট’, পরে ‘মোল্লাহাট’। একাত্তরের নানা বিবরণেও থানাটিকে ‘মোল্লারহাট’ লেখা দেখা যায়। দুটি গল্পের কোনোটিরই সমসাময়িক দলিল আমরা দেখিনি; তবে দুটোতেই একটি মিল আছে: একজন ‘মোল্লা’, আর তাঁকে ঘিরে জমে ওঠা একটি হাট।