এক রাতে মসজিদ তৈরির কথা জনশ্রুতি, উপজেলা তথ্য বাতায়নে মুরব্বিদের বক্তব্য হিসেবে লেখা। নির্মাণকাল, নির্মাতা বা স্থাপত্যরীতি নিয়ে কোনো প্রকাশিত গবেষণা পাওয়া যায়নি।
বাংলাপিডিয়ার মোল্লাহাট উপজেলা নিবন্ধে ‘প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ’ অংশে মাত্র একটি নাম আছে: কুলিয়া ইউনিয়নের এক গম্বুজ মসজিদ। মোল্লাহাট উপজেলা তথ্য বাতায়নও ‘ঐতিহ্যবাহী কুলিয়া জামে মসজিদ’কে উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ বলে উল্লেখ করেছে। কিন্তু মসজিদটি কে, কবে নির্মাণ করেছেন, বাতায়নের ভাষাতেই, তা এখনো জানা যায়নি।
যেখানে দলিল নীরব, সেখানে কথা বলে লোকস্মৃতি। বাতায়নে লেখা আছে, মুরব্বিদের অনেকে বলেন মসজিদটি এক রাতেই তৈরি হয়েছিল; কেউ কেউ বলেন, এটি হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছিল। কে বা কারা সেই এক রাতে মসজিদ গড়েছিল, গল্পে তার উত্তর নেই; সেই রহস্যই গল্পটিকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঁচিয়ে রেখেছে।
ইতিহাসের দিক থেকে বলার মতো তথ্য কম। মসজিদের কোনো শিলালিপির পাঠ বা নির্মাণকাল নিয়ে প্রকাশিত গবেষণা আমরা পাইনি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের হালনাগাদ তালিকায় বাগেরহাট জেলার ২০টি সংরক্ষিত পুরাকীর্তির মধ্যেও এর নাম নেই। বাগেরহাট সদরে পনেরো শতকের কয়েকটি এক গম্বুজ মসজিদ সংরক্ষিত আছে, যেমন রণবিজয়পুর, সিংগাইর বা বিবি বেগনী মসজিদ; তবে কুলিয়ার মসজিদ সেই সময়ের কি না, তা বলার মতো প্রমাণ এখনো হাতে নেই। তাই ‘প্রাচীনতম’ পরিচয়টিও আপাতত স্থানীয় বিশ্বাস আর উপজেলা প্রশাসনের বর্ণনার ওপর দাঁড়িয়ে। ইংরেজি উইকিপিডিয়ার হিসাবে মোল্লাহাটে ২৬৭টি মসজিদ, ৭২টি মন্দির ও ২টি গির্জা আছে; এত উপাসনালয়ের ভিড়েও বাংলাপিডিয়ার প্রত্নসম্পদের তালিকায় জায়গা পেয়েছে কেবল কুলিয়ার এই মসজিদ।
কুলিয়ার নাম অবশ্য দলিলে উঠেছে অন্য এক কারণে। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ অনুযায়ী, একাত্তরে কুলিয়া ইউনিয়নে আলাদা সংগ্রাম কমিটি গড়ে উঠেছিল, আর ৪ অক্টোবর ফকিরহাটের পিলজঙ্গ যুদ্ধে শহীদ ১৪ মুক্তিযোদ্ধার তিনজনই ছিলেন কুলিয়ার সন্তান। পুরোনো মসজিদ আর একাত্তরের শহীদ, দুই ভিন্ন সময়ের স্মৃতি নিয়ে কুলিয়া আজও মোল্লাহাটের ইতিহাসে জায়গা করে আছে।