রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর, বরিশালে, বাবা ডা. শেখ ওয়ালীউল্লাহর কর্মস্থলে। বাংলাপিডিয়া জানায়, তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সাহেবের মেঠ গ্রামে; আসল নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজেই বেছে নেন।
বাংলা উইকিপিডিয়ায় সংকলিত জীবনপঞ্জি অনুযায়ী, তাঁর শৈশবের বড় অংশ কেটেছে নানাবাড়ি মিঠেখালী গ্রামে, পড়াশোনার শুরুও সেখানকার পাঠশালায়। ১৯৬৪ সালে তিনি সাহেবের মেঠ গ্রামে নানার নামে প্রতিষ্ঠিত ইসমাইল মেমোরিয়াল স্কুলে, আর ১৯৬৬ সালে মোংলার সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬৮ সালে মামাতো ভাইদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘বনফুল’ নামের একটি পাঠাগার; কিশোর বয়সেই বই আর লেখালেখির টান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পরে ঢাকায় পড়াশোনা: ঢাকা কলেজ, তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক (১৯৮০) ও স্নাতকোত্তর (১৯৮৩)। ছাত্রজীবনেই প্রকাশিত ‘উপদ্রুত উপকূল’ (১৯৭৯) ও ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ (১৯৮১) তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়; ১৯৮০ সালে পান মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার। একাত্তরের স্মৃতি নিয়ে লেখা ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতার পঙ্ক্তি ‘আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই’ তাঁকে ইতিহাস-সচেতন কবি হিসেবে চিনিয়ে দেয়। তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন। ২০২৪ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়।
মিঠেখালীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধু শৈশবের নয়। উইকিপিডিয়ার জীবনপঞ্জি অনুযায়ী, গ্রামের বাড়িতে বন্ধুদের নিয়ে তিনি ‘অন্তর বাজাও’ নামে গানের দল গড়েছিলেন। তাঁর লেখা ও সুর করা ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ গানটি দুই বাংলায় জনপ্রিয়; স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্যে গানটি তিনি ১৯৮৭ সালে মোংলায় বসে লিখেছিলেন, যদিও উইকিপিডিয়ার জীবনপঞ্জিতে রচনাকাল ১৯৮৯। এই গানের জন্য ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি তাঁকে মরণোত্তর শ্রেষ্ঠ গীতিকারের সম্মাননা দেয়।
১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁকে সমাহিত করা হয় মিঠাখালীতে, মামার বাড়িতে। প্রতিবছর ১৬ অক্টোবর তাঁর জন্মদিনে রুদ্র স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে মিঠাখালীতে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়, হয় দোয়া, আলোচনা, আবৃত্তি আর গান। তাঁর নামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাপীঠও আছে, যেখানে জন্মবার্ষিকীর স্মরণসভা বসে।