চিতল মাছ থেকে নামকরণের কথাটি জনশ্রুতি; উপজেলা বাতায়ন নিজেই বলেছে নামের উৎস নিশ্চিত নয়। থানা ও উপজেলা গঠনের সাল প্রশাসনিক তথ্য।
চিতলমারী নামটা শুনলেই মাছের কথা মনে আসে, আর স্থানীয় জনশ্রুতিও সেদিকেই ইঙ্গিত করে। চিতলমারী উপজেলা তথ্য বাতায়ন স্পষ্ট করেই লিখেছে, নামকরণ নিয়ে সঠিক কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে লোকমুখে প্রচলিত, জায়গাটি মধুমতি, চিত্রা ও বলেশ্বর নদীর সঙ্গমস্থলের তীরে। সেই মোহনা একসময় চিতল মাছের জন্য বিখ্যাত ছিল, জেলেরা সেখানে প্রচুর চিতল ধরতেন। সেখান থেকেই স্থানীয় মানুষ তীরের জনপদটিকে ডাকতে শুরু করেন চিতলমারী নামে।
উপজেলা বাতায়নের ইতিহাস অনুযায়ী, উনিশ শতকের সত্তরের দশকের দিকে মধুমতির তীরে এখানে জনবসতি জমে ওঠে এবং একটি ছোট ব্যবসাকেন্দ্র গড়ে ওঠে; এখান থেকে চাল রপ্তানি হতো। দীর্ঘদিন চিতলমারী ছিল বাগেরহাট থানার অধীন একটি ইউনিয়ন। এলাকার গুরুত্ব বাড়ায় ১৯৮১ সালে বাগেরহাট সদর, কচুয়া ও মোল্লাহাটের অংশ নিয়ে চিতলমারী থানা গঠিত হয়, আর ১৯৮৩ সালের ৭ নভেম্বর থানাটি উপজেলায় উন্নীত হয়। প্রথম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছিলেন নুরুল হুদা চৌধুরী; ১৯৮৫ সালের নির্বাচনে প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কালিদাস বড়াল।
প্রশাসনিক ইতিহাসের বিবরণে অবশ্য কিছু ভিন্নতা আছে। বাংলা উইকিপিডিয়ায় বলা হয়েছে, মোল্লাহাট থানার অংশ নিয়ে চিতলমারী থানা হয়েছিল; আবার একাত্তরের বিবরণগুলোতে চিতলমারীকে কখনো বাগেরহাট, কখনো কচুয়া থানার অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিন থানার সীমান্তে থাকা এই জনপদের প্রশাসনিক পরিচয় তাই সময়ের সঙ্গে বদলেছে। উপজেলা বাতায়নের হিসাবে চিতলমারীর আয়তন ১৯২ বর্গকিলোমিটার; উত্তরে মধুমতি নদী, দক্ষিণে কচুয়া ও বাগেরহাট সদর, পূর্বে পিরোজপুরের নাজিরপুর আর পশ্চিমে মোল্লাহাট ও ফকিরহাট। যে নদীর নামে জনশ্রুতির শুরু, সেই মধুমতি আজও উপজেলার উত্তর সীমানা জুড়ে বয়ে চলেছে।
চিতল মাছ আর নামের সম্পর্ক নিয়ে কোনো লিখিত দলিল পাওয়া যায় না; গল্পটি জনশ্রুতি। তবে একটি জায়গার নাম যে তার নদী আর মাছ ধরার জীবন থেকে উঠে আসতে পারে, চিতলমারীর মানুষ সেই গল্পই প্রজন্ম ধরে বলে আসছেন।