ফকির মঙ্গল শাহের আস্তানা থেকে ফকিরহাট

ইতিহাস ও জনশ্রুতিব্রিটিশ আমলনামকরণ জনশ্রুতি; থানা গঠন ৭ জুন ১৮৬৯ফকিরহাট সদর, ভৈরব নদের দক্ষিণ তীর

জনশ্রুতি অনুযায়ী, ভৈরবের দক্ষিণ তীরে ফকির মঙ্গল শাহ নামে এক সাধকের আস্তানা ঘিরে দোকানপাট বসে, সেখান থেকেই হাট আর নাম ফকিরহাট। দলিলে পাওয়া ইতিহাস শুরু হয় ১৮৬৯ সালের থানা থেকে।

ফকির মঙ্গল শাহ ও তাঁর অলৌকিক ক্ষমতার কথা জনশ্রুতি; তাঁর সময়কাল বা মাজারের কোনো দলিল পাওয়া যায়নি। থানা ও উপজেলা গঠনের তারিখ বাংলাপিডিয়ার তথ্য।

ভৈরব নদের দক্ষিণ তীরে ফকিরহাট। নামের ভেতরেই লুকিয়ে আছে একজন ফকির আর একটি হাটের গল্প। ফকিরহাট উপজেলা তথ্য বাতায়ন স্বীকার করে, নামকরণ সম্পর্কে সঠিকভাবে কিছুই জানা যায় না। তবে জনশ্রুতি আছে, ফকির মঙ্গল শাহ নামে এক মুসলিম সাধক ভৈরবের দক্ষিণ তীরে, এখনকার থানার কাছে, তাঁর আস্তানা গড়েছিলেন। লোকে বিশ্বাস করত, তিনি অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী।

সাধকের আস্তানাকে ঘিরে ধীরে ধীরে দোকানপাট বসতে থাকে; ভক্ত আর পথচারীদের আনাগোনায় জায়গাটি কালক্রমে হাটে রূপ নেয়। ফকিরের আস্তানাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সেই হাট থেকেই নাম হয় ফকিরহাট, এই হলো লোকমুখে প্রচলিত ব্যাখ্যা। মঙ্গল শাহ কোন শতকের মানুষ, তাঁর মাজার এখন কোথায় বা আদৌ টিকে আছে কি না, সে বিষয়ে কোনো লিখিত সূত্র আমরা পাইনি।

দলিলে পাওয়া ইতিহাস পরের যুগের। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী ফকিরহাট থানা গঠিত হয় ১৮৬৯ সালের ৭ জুন, আর ১৯৮৩ সালের ১ আগস্ট এটি উপজেলায় রূপান্তরিত হয়। উপজেলা বাতায়নে পুলিশ স্টেশন স্থাপনের সাল ‘১৯৬৯’ লেখা আছে; দিন ও মাস একই হওয়ায় এটি সম্ভবত ১৮৬৯-এর মুদ্রণপ্রমাদ। রূপসা ও ভৈরব এ উপজেলার প্রধান নদী। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে উপজেলার আয়তন ১৬০.৬৮ বর্গকিলোমিটার, ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৯; নারকেল, সুপারি, পান আর মাছ এখানকার প্রধান রপ্তানিপণ্য। একসময়ের এক ফকিরের আস্তানা ঘিরে বসা হাট আজ তাই এক ব্যস্ত বাণিজ্যিক জনপদ।

ফকির-দরবেশ আর পুরোনো উপাসনালয়ের স্মৃতি এখানে আরও আছে। উপজেলা বাতায়নের দর্শনীয় স্থানের তালিকায় শাহ আউলিয়াবাগ মাজার ও জোড়া শিবমন্দিরের নাম রয়েছে; বাংলা উইকিপিডিয়া মাজারটিকে বালিয়াডাঙ্গায় এবং জোড়া শিবমন্দিরকে দোহাজারী গ্রামে দেখিয়েছে। বাংলাপিডিয়া প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে শিবমন্দির, খানজাহানিয়া মসজিদ ও নওয়াপাড়ার ঘোষ জমিদারবাড়ির কথা লিখেছে। আর বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ জানায়, ১৯৭১ সালে নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের দোহাজারী গ্রামের জোড়া শিবমন্দিরে ছাত্র-তরুণদের মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।

তথ্যসূত্র

  1. ফকিরহাট উপজেলা প্রশাসনের পটভূমি · ফকিরহাট উপজেলা তথ্য বাতায়ন, ২০২৬
  2. Fakirhat Upazila · Banglapedia (এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ)
  3. ফকিরহাট উপজেলা · বাংলাপিডিয়া (এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ)
  4. শাহ আউলিয়াবাগ মাজার এবং জোড়া শিব মন্দির · ফকিরহাট উপজেলা তথ্য বাতায়ন, ২০২৩
  5. ফকিরহাট উপজেলা · উইকিপিডিয়া (বাংলা)
  6. মুক্তিযুদ্ধে ফকিরহাট উপজেলা (বাগেরহাট) · সংগ্রামের নোটবুক (মূল সূত্র: বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ, ৬ষ্ঠ খণ্ড)

কোনো তথ্য ভুল মনে হলে বা আরও ভালো সূত্র জানা থাকলে নিচে জানান; যাচাই করে ঠিক করা হবে।

ফকিরহাট-এর আরও গল্প

সব দেখুন
মূলঘরের মেয়ে নীলিমা ইব্রাহিমফকিরহাটের মূলঘরের জমিদার পরিবারে জন্ম নেওয়া নীলিমা রায় চৌধুরী পরে হয়ে ওঠেন শিক্ষাবিদ, লেখক, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক। একাত্তরের বীরাঙ্গনাদের জবানি তিনিই পৌঁছে দিয়েছিলেন পাঠকের কাছে।প্রমাণিত ইতিহাসপিলজঙ্গের রাতভারতে প্রশিক্ষণ শেষে নিজ এলাকায় ফিরছিলেন মোল্লাহাটের একদল তরুণ মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ৪ অক্টোবর রাতে ফকিরহাটের পিলজঙ্গে রাজাকারদের ফাঁদে পড়ে প্রাণ দেন অন্তত ১৪ জন।প্রমাণিত ইতিহাসমানসার দুই রক্তাক্ত দিনএকাত্তরে ফকিরহাটের মানসায় দুবার রক্ত ঝরেছে: এপ্রিলে বাজারে গুলি চালিয়ে, আর পরে বেতন তুলতে আসা একদল স্কুলশিক্ষককে ধরে নিয়ে হত্যা করে।প্রমাণিত ইতিহাস