জমিদার কচু রায়ের নাম থেকে কচুয়া, এটি জনশ্রুতি; কোনো দলিল পাওয়া যায়নি। বাকেরগঞ্জের অংশ থাকার দাবিও সূত্রহীন। থানা ও উপজেলা গঠনের সাল বাংলাপিডিয়ার তথ্য।
বাগেরহাটের কচুয়া নামটি নিয়ে সরকারি ভাষ্য মাত্র এক লাইনের। কচুয়া উপজেলা তথ্য বাতায়নের ‘উপজেলার পটভূমি’ পাতায় লেখা আছে, জমিদার কচু রায়ের নাম অনুসারে এ জনপদের নাম হয়েছে কচুয়া। বাংলা উইকিপিডিয়াও একই কথা বলেছে, তবে ‘শোনা যায়’ বলে। এই কচু রায় কে ছিলেন, কোন শতকে তাঁর জমিদারি ছিল, তাঁর বসতবাড়ি কোথায় ছিল, এসবের কোনো দলিল বা গবেষণা আমরা খুঁজে পাইনি। তাই নামের গল্পটিকে আপাতত জনশ্রুতি হিসেবেই পড়া উচিত। মনে রাখা দরকার, চাঁদপুর জেলাতেও কচুয়া নামে একটি উপজেলা আছে; তার ইতিহাস আলাদা।
জনপদটি কীভাবে গড়ে উঠেছিল, তার একটা আভাস দেয় উপজেলা বাতায়নের ‘ভাষা ও সংস্কৃতি’ পাতা। সেখানে বলা হয়েছে, কচুয়ার বেশির ভাগ অঞ্চলে বন সরিয়ে বসতি গড়ে উঠেছিল, আর আশপাশের নানা উপজেলা ও জেলা থেকে মানুষ এসে বসত করায় এখানকার আঞ্চলিক ভাষায় নানা টান মিশে গেছে। বাংলা উইকিপিডিয়ায় আরও দাবি করা হয়েছে, কচুয়া একসময় বাকেরগঞ্জের (বরিশাল) অংশ ছিল; তবে এ দাবির পক্ষে সেখানে কোনো সূত্র দেওয়া নেই। একই পাতায় বাতায়ন এখানকার জীবনের ছবিও এঁকেছে: কৃষিই প্রধান পেশা, ভাত আর মাছ প্রধান খাবার, গোলপাতার ছাউনির চৌচালা ঘর; নাটক, যাত্রা, মেলা, ষাঁড়ের লড়াই আর নৌকাবাইচ মানুষের প্রিয়, আর ভাটি অঞ্চলের মানুষের প্রিয় গান ভাটিয়ালি। শারদীয় দুর্গোৎসব আর ঈদে দুই সম্প্রদায়ের মানুষই উৎসবে মাতেন।
দলিলে পাওয়া তথ্যগুলো অপেক্ষাকৃত পরের যুগের। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী কচুয়া থানা গঠিত হয় ১৮৮৬ সালে, আর ১৯৮৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থানাটি উপজেলায় রূপ নেয়। বালেশ্বর, তালেশ্বর ও বিষখালী নদী এবং লারার খাল এ অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য জলধারা। প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে বাংলাপিডিয়া শিবপুরের শিববাড়িকে ১৩০০ খ্রিস্টাব্দের বলে উল্লেখ করেছে, যদিও এই তারিখের ভিত্তি নিবন্ধে বলা নেই; সঙ্গে আছে মঘিয়া জমিদারবাড়ি সংলগ্ন কালীমন্দির। মেলার তালিকায় আছে বিষখালী বারুণী মেলা ও শিববাড়ি মেলা।
নামের উৎস নিয়ে নিশ্চিত হতে হলে পুরোনো জমিদারি দলিল, রাজস্ব নথি বা ব্রিটিশ আমলের জরিপের কাগজ ঘেঁটে দেখা দরকার। ততদিন কচু রায়ের গল্পটি কচুয়ার মানুষের মুখে মুখে চলা এক পরিচয়-কাহিনি হয়েই থাকছে।