সব তথ্য আদালতের রায়-সংক্রান্ত সংবাদ থেকে। ঘটনার সংখ্যা ও তারিখ রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে যেমন বর্ণিত, তেমনই দেওয়া হয়েছে। নাম কেবল দণ্ডিত ব্যক্তির; খালাসপ্রাপ্ত ও রায়ের আগে মৃত আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি।
স্বাধীনতার চার দশক পর বাগেরহাটের একাত্তরের কয়েকটি বড় হত্যাকাণ্ড আদালতের নথিতে উঠে আসে। ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাগেরহাটের তিনজন রাজাকার নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৪ সালে গ্রেপ্তার হয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচার চলে। রাষ্ট্রপক্ষ ৬৪ জন সাক্ষীর তালিকা দেয়, আদালতে হাজির করা হয় ৩২ জনকে।
রায় ঘোষিত হয় ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট, বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে। শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়; ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, ছয়টি অভিযোগের পাঁচটিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। একই মামলার আরেক আসামি একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড পেয়েছিলেন, কিন্তু ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাঁর আপিল মঞ্জুর করে তাঁকে খালাস দেন। তৃতীয় আসামি রায়ের আগে ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই মারা যাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কার্যক্রম বাতিল হয়।
অভিযোগগুলোতে যে ঘটনাগুলোর বিবরণ এসেছে, সেগুলো বাগেরহাটের একাত্তরের সবচেয়ে বেদনার অধ্যায়। ১৩ মে রনজিতপুরে ৪০–৫০ জন নিরস্ত্র হিন্দু মানুষকে হত্যা করে শত শত বাড়ি লুট ও আগুন দেওয়া হয়। ২১ মে রামপালের ডাকরায় ভারতে আশ্রয় নিতে কালীমন্দিরে জড়ো হওয়া হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলায় ৬০০–৭০০ জন নিহত হন। ১৮ জুন বেশরগাতী ও কান্দাপাড়া থেকে ১৯ জনকে ধরে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। ১৪ অক্টোবর চুলকাঠিতে সাতজনকে হত্যা ও প্রায় ৫০টি বাড়ি লুট-অগ্নিসংযোগ, আর ৫ নভেম্বর কচুয়ার শাখারীকাঠি হাটে ৪২ জনকে হত্যার অভিযোগও ছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে কোন অভিযোগে কী দণ্ড হয়েছে, তার আলাদা হিসাব পাওয়া যায়নি; তাই এগুলো অভিযোগে বর্ণিত ঘটনা হিসেবেই পড়া উচিত। শাখারীকাঠির তারিখ বাংলাপিডিয়ায় ৩ মে, অভিযোগে ৫ নভেম্বর।
রায়ের দিন বাগেরহাটে মানুষ মিছিল করে মিষ্টি বিতরণ করেছিল বলে ঢাকা ট্রিবিউন লিখেছে। দণ্ডিত ব্যক্তির পক্ষে আপিলের কথা তখনই জানানো হয়েছিল; সেই আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির খবর আমরা যাচাই করতে পারিনি। বাংলাপিডিয়ার জেলা ভুক্তিতে রনজিতপুর, ডাকরা, কান্দাপাড়া ও শাখারীকাঠিসহ নয়টি স্থানে গণকবরের উল্লেখ আছে—আদালতের রায় যা-ই হোক, সেই মাটিতে শুয়ে থাকা মানুষদের স্মৃতিই এ ইতিহাসের কেন্দ্র।