বাগেরহাটের রিয়েল স্টোরি

ছয়শো বছরের পুরনো খলিফাতাবাদ থেকে একাত্তর পর্যন্ত, বাগেরহাটের নয় উপজেলার সত্যি গল্প। প্রতিটি গল্পের নিচে তথ্যসূত্র আছে, আর কোনটা প্রমাণিত ইতিহাস আর কোনটা লোকমুখে প্রচলিত জনশ্রুতি, তা আলাদা করে লেখা।

মোরেলগঞ্জ

৮টি গল্প
বন কেটে আবাদ: বাঘ, নলখাগড়া আর ঝড়ের সঙ্গে লড়াইদেড় শ বছর আগে মোরেলগঞ্জ-শরণখোলার মাটি ছিল ঘন সুন্দরবন। লোহার খাঁচায় বসে মানুষখেকো বাঘ শিকার, এক বছর অবহেলায় ফিরে আসা নলবন আর ১৮৬৯ সালের ঝড়—সমকালীন সরকারি প্রতিবেদনে আবাদের কঠিন দিনগুলোর ছবি।প্রমাণিত ইতিহাসসরালিয়া থেকে মোরেলগঞ্জ: এক ইংরেজ পরিবারের আবাদ ও নামকরণপানগুছির পাড়ের গ্রামটির নাম ছিল সরালিয়া। ১৮৪৯ সালে এক ইংরেজ নারী ছেলেদের নামে সুন্দরবনের লাট বন্দোবস্ত নেওয়ার পর জঙ্গল কেটে গড়ে ওঠে বাজার—নাম হয় মোরেলগঞ্জ। আর ‘নীলকুঠি’ নিয়ে প্রচলিত ধারণা কতটা ঠিক?প্রমাণিত ইতিহাসডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বঙ্কিমচন্দ্র ও মোরেলগঞ্জ মামলাবারইখালীর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নৌকায় মোরেলগঞ্জে ছুটে গিয়েছিলেন খুলনার তরুণ মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। লাখ টাকার ঘুষের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া, বৃন্দাবন ও বোম্বাই থেকে আসামি ধরা, আর শেষে হেলির খালাস—মামলার আদ্যোপান্ত।প্রমাণিত ইতিহাসবারইখালীর রহিমুল্লাহ: মোরেলদের লাঠিয়ালের বিরুদ্ধে এক রাতের লড়াই১৮৬১ সালের নভেম্বরে বারইখালীর কৃষক রহিমুল্লাহ মোরেল জমিদারির ম্যানেজার ডেনিস হেলির লাঠিয়াল-বন্দুকধারীদের বিরুদ্ধে সারা রাত লড়ে প্রাণ দেন। দক্ষিণ বাংলার কৃষক-প্রতিরোধের এই অধ্যায় নিয়ে যা দলিলে আছে, আর যা কেবল লোকমুখে।প্রমাণিত ইতিহাসবন্দরের স্বপ্ন থেকে ‘ছোট কলকাতা’: মোরেলগঞ্জের হাট, জাহাজ আর জমিদারি বদলএক ইংরেজ কর্মকর্তা ভেবেছিলেন, মোরেলগঞ্জ একদিন হবে সুন্দরবনের ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’। ১৮৬৯ সালে বন্দর ঘোষণা, হাটবারে নৌকার ভিড়, মিঠা পানির শেষ ঘাট—তারপর মোরেলদের জমিদারি হাতবদল আর পানগুছির ভাঙন।প্রমাণিত ইতিহাসএকাত্তরের মোরেলগঞ্জ: বেতবুনিয়া থেকে রাজাপুর, ধ্বংস আর প্রতিরোধমে মাসের কয়েক সপ্তাহে বেতবুনিয়া, মোরেলগঞ্জ বাজার, মহিষপুরা, লক্ষ্মীখালী আর তেলিগাতীতে প্রাণ হারান কয়েক শ মানুষ। তার জবাবে সুন্দরবনঘেঁষা এই জনপদের তরুণেরা গড়ে তোলেন প্রতিরোধ; ১৩ ডিসেম্বর মোরেলগঞ্জ হানাদারমুক্ত হয়।প্রমাণিত ইতিহাসফকিরের তাকিয়া: কালাচাঁদ ফকির ও বারইখালীর অগ্রহায়ণের মেলামোরেল সাহেবরা আসার বহু আগে বারইখালীর জঙ্গলে আস্তানা গেড়েছিলেন কালাচাঁদ ফকির। তাঁর নামে আজও প্রতি ২৫ অগ্রহায়ণ মেলা বসে, আর লোকমুখে ফেরে বাঘের পিঠে চড়া, আগুনে না-পোড়া চাদর আর এক রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণীর গল্প।ইতিহাস ও জনশ্রুতিলক্ষ্মীখালীর গোপাল সাধু ও কামনা সাগরের বারুণী স্নানসুন্দরবনের কোলের এক গ্রামে জন্মেছিলেন মতুয়া সাধক গোপালচাঁদ। তাঁর দানে ছাপা হয়েছিল হরিচাঁদ ঠাকুরের জীবনকাব্য, তাঁর বাড়িতে আজও লাখো ভক্ত বারুণী স্নানে আসেন—আর ১৯৭১ সালে এই আশ্রয়স্থলেই ঘটেছিল এক নির্মম গণহত্যা।ইতিহাস ও জনশ্রুতি