জীবনী তথ্য উইকিপিডিয়া (বাংলা ও ইংরেজি) থেকে, যার উৎস মূলত প্রথম আলোর ‘একাত্তরের বীরযোদ্ধা’ সংকলন। খিজির আলীর যুদ্ধবিবরণ একটি সূত্রেই পাওয়া গেছে।
লিয়াকত আলী খান, বীর উত্তম। উইকিপিডিয়া অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৯৪৮ সালের ২০ ডিসেম্বর, বাগেরহাট পৌরসভার সরাই রোডের আমলাপাড়ায়। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তা একাত্তরে ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানে। মে মাসের শেষে বাবার অসুস্থতার কথা বলে দেশে ফিরে কয়েক দিন পর ভারতে গিয়ে যুদ্ধে যোগ দেন, হন প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অ্যাডজুট্যান্ট। সিলেটের কানাইঘাট-গৌরীপুর এলাকায় ২৬ নভেম্বরের আক্রমণে ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান শহীদ হলে তিনি কোম্পানির নেতৃত্ব নেন এবং আহত হয়েও লড়াই চালিয়ে যান। ১৯৭৩ সালের সরকারি গেজেটে তিনি বীর উত্তম খেতাব পান।
খিজির আলী, বীর বিক্রম। বাংলা উইকিপিডিয়া জানায়, ১৯৩৪ সালে বাগেরহাট সদরের কার্তিকদিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম; একাত্তরে তিনি ছিলেন একজন মেকানিক, অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ ছিল না। ২৬ মার্চ খুলনার বৈকালীতে সাধারণ বন্দুক হাতে তিনি অনেকক্ষণ পাকিস্তানি সেনাদের ঠেকিয়ে রাখেন। পরে ভারতের টাকিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে ৯ নম্বর সেক্টরের হিঙ্গলগঞ্জ সাব-সেক্টরে যুদ্ধ করেন। ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে মোংলা বন্দরে নৌ-কমান্ডোদের ‘অপারেশন জ্যাকপট’-এ তাঁর দল স্থলভাগে নিরাপত্তা ও পথ দেখানোর দায়িত্বে ছিল। অক্টোবরের মাঝামাঝি সাতক্ষীরার আশাশুনি থানায় যৌথ আক্রমণে তিনি একটি দলের নেতৃত্ব দেন।
মোহাম্মদ হোসেন, বীর প্রতীক। উইকিপিডিয়ার তথ্যে তাঁর পৈতৃক বাড়ি মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ফাসিয়াতলা গ্রামে (ডাকঘর আমতলী বাজার)। ১৯৫২ সালে তিনি তৎকালীন ইপিআরে যোগ দেন; একাত্তরে কুমিল্লা উইংয়ে কর্মরত অবস্থায় প্রতিরোধযুদ্ধে অংশ নিয়ে পরে ২ নম্বর সেক্টরে লড়েন। ২০০৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান।
শহীদ এনামুল হক, বীর প্রতীক। মোল্লাহাট উপজেলার আটজুড়ী ইউনিয়নের বাসাবাড়ি গ্রামের এই তরুণ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সৈনিক ছিলেন, একাত্তরে ছুটিতে বাড়িতে ছিলেন। যুদ্ধে যোগ দিয়ে ৮ নম্বর সেক্টরের বয়রা সাব-সেক্টরে লড়েন। ১৭ নভেম্বর যশোরের ঝিকরগাছার কাশীপুরে, কপোতাক্ষের সেতুর কাছে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়েও লড়াই চালিয়ে যান এবং শহীদ হন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন।
এই চারজনের জীবনী বাংলা ও ইংরেজি উইকিপিডিয়ার নিবন্ধভিত্তিক, যেগুলোর বড় অংশ প্রথম আলোর ‘একাত্তরের বীরযোদ্ধা’ সংকলনের বরাতে লেখা। বাগেরহাটে জন্ম বা বসবাস করা খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণ সরকারি তালিকা আমরা যাচাই করতে পারিনি; তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে।