বাগেরহাটের রিয়েল স্টোরি
ছয়শো বছরের পুরনো খলিফাতাবাদ থেকে একাত্তর পর্যন্ত, বাগেরহাটের নয় উপজেলার সত্যি গল্প। প্রতিটি গল্পের নিচে তথ্যসূত্র আছে, আর কোনটা প্রমাণিত ইতিহাস আর কোনটা লোকমুখে প্রচলিত জনশ্রুতি, তা আলাদা করে লেখা।
বাগেরহাট সদর
৭টি গল্পঅধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন: পিসি কলেজের শিক্ষক, একাত্তরের শহীদঅর্থনীতির অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন একাত্তরে গ্রামের তরুণদের সংগঠিত করেছিলেন। ২৮ অক্টোবর রাতে নৌকায় বাড়ি ফেরার পথে গুলিতে নিহত হন তিনি।প্রমাণিত ইতিহাসএকাত্তরের বাগেরহাট শহর: ২৪ এপ্রিল থেকে ১৭ ডিসেম্বরখুলনার পতনের পরও এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত মুক্ত ছিল বাগেরহাট। এরপর দড়াটানার তীরের ডাকবাংলো হয়ে ওঠে নির্যাতনকেন্দ্র; শহর মুক্ত হয় ১৭ ডিসেম্বর সকালে।প্রমাণিত ইতিহাসএকাত্তরের বাগেরহাট: নবম সেক্টর, গণহত্যা আর ১৭ ডিসেম্বরমুক্তিযুদ্ধে বাগেরহাট ছিল ৯ নম্বর সেক্টরে। এপ্রিল থেকে জেলাজুড়ে গণহত্যা, সুন্দরবনে গেরিলা ঘাঁটি, মোংলায় নৌ-কমান্ডো অভিযান—আর বিজয়ের পরদিন, ১৭ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় বাগেরহাট।প্রমাণিত ইতিহাসখেতাবের আলোয় বাগেরহাটের চার মুক্তিযোদ্ধাবাগেরহাটের মাটির চার সন্তান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য রাষ্ট্রীয় খেতাব পেয়েছেন—একজন বীর উত্তম, একজন বীর বিক্রম, দুজন বীর প্রতীক। কেউ লড়েছেন সিলেটে, কেউ যশোর সীমান্তে, কেউ মোংলার নৌ-অভিযানে।প্রমাণিত ইতিহাসট্রাইব্যুনালের রায়ে একাত্তরের বাগেরহাটরনজিতপুর, ডাকরা, কান্দাপাড়া, শাখারীকাঠি—একাত্তরে বাগেরহাটের এসব হত্যাযজ্ঞের বিচার হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। ২০১৫ সালের রায় কী বলেছিল, পরে কী হলো?প্রমাণিত ইতিহাসরণজিৎপুর, কান্দাপাড়া, চুলকাঠি: একাত্তরের তিন হত্যাযজ্ঞ ও চুয়াল্লিশ বছর পরের রায়১৩ মে রণজিৎপুরে ৪০–৫০ জন, ১৮ জুন কান্দাপাড়ায় ১৯ জন, ১৪ অক্টোবর চুলকাঠিতে ৭ জন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ২০১৫ সালের রায়ে এসব হত্যাকাণ্ডের বিবরণ নথিভুক্ত।প্রমাণিত ইতিহাসরফিক বাহিনী: দড়াটানার ওপারে এগারো জন থেকে পাঁচ শ যোদ্ধাছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা রফিকুল ইসলাম খোকনের নেতৃত্বে বিষ্ণুপুরে গড়ে ওঠা রফিক বাহিনী ছিল একাত্তরে বাগেরহাটের সবচেয়ে আলোচিত আঞ্চলিক প্রতিরোধ বাহিনীগুলোর একটি।প্রমাণিত ইতিহাস
চিতলমারী
২টি গল্পদশমহলের ২০ জুন: খলিশাখালী আর হোগলাবনভারতে যাওয়ার পথে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীতে ভরা দশমহলে ১৯৭১ সালের ২০ জুন চার দিক থেকে গানবোট আর স্থলপথে হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা। খলিশাখালী আর খড়মখালীর হোগলাবনে প্রাণ যায় বহু মানুষের।প্রমাণিত ইতিহাসনয় মাসের মুক্তাঞ্চল চিতলমারীবাগেরহাট শহর শত্রুর দখলে গেলেও চিতলমারী একাত্তরের প্রায় পুরো সময় মুক্তাঞ্চল ছিল। বাম ও আওয়ামী রাজনীতির কর্মী, স্থানীয় বাহিনী, গ্রামের নারীরা আর এক প্রবীণ জনপ্রতিনিধি মিলে গড়েছিলেন এই প্রতিরোধ।প্রমাণিত ইতিহাস
ফকিরহাট
২টি গল্পপিলজঙ্গের রাতভারতে প্রশিক্ষণ শেষে নিজ এলাকায় ফিরছিলেন মোল্লাহাটের একদল তরুণ মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ৪ অক্টোবর রাতে ফকিরহাটের পিলজঙ্গে রাজাকারদের ফাঁদে পড়ে প্রাণ দেন অন্তত ১৪ জন।প্রমাণিত ইতিহাসমানসার দুই রক্তাক্ত দিনএকাত্তরে ফকিরহাটের মানসায় দুবার রক্ত ঝরেছে: এপ্রিলে বাজারে গুলি চালিয়ে, আর পরে বেতন তুলতে আসা একদল স্কুলশিক্ষককে ধরে নিয়ে হত্যা করে।প্রমাণিত ইতিহাস
কচুয়া
৩টি গল্পভাসা বাজার থেকে মঘিয়ার খালপাড়হাটবারে ভাসা বাজার থেকে ধরে নেওয়া মানুষদের সন্ধ্যায় মঘিয়ায় খালের পাড়ে হত্যা করে রাজাকাররা। নিহতের সংখ্যা নিয়ে সূত্রগুলোতে বড় ফারাক থাকলেও ১৫ জন শহীদের নাম লেখা আছে।প্রমাণিত ইতিহাসযে থানায় ঢুকতে পারেনি পাকিস্তানি সেনারাসেতুর পাটাতন খুলে আর স্থানীয় বাহিনী গড়ে কচুয়ার মানুষ পাকিস্তানি সেনাদের থানায় ঢুকতে দেননি। তবু রাজাকারদের হাতে এ জনপদ রক্ত দিয়েছে; ১৩ ডিসেম্বর কচুয়া মুক্ত হয়।প্রমাণিত ইতিহাসশাঁখারীকাঠির হাটে এক শুক্রবার১৯৭১ সালের ৫ নভেম্বর, হাটের দিনে কচুয়ার শাঁখারীকাঠি বাজার ঘিরে রাজাকাররা হিন্দু হাটুরেদের বেঁধে নিয়ে খালপাড়ে গুলি করে হত্যা করে। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ হত্যাকাণ্ডে সিরাজ মাস্টারকে দোষী সাব্যস্ত করে।প্রমাণিত ইতিহাস