বাগেরহাটে কী খাবেন, কোথায় পাবেন

১ অক্টোবর ২০২৬

বাগেরহাট চিংড়ির জেলা হিসেবে পরিচিত; ডিবিসি নিউজের ৬৪ জেলার খাবারের তালিকায় (মে ২০২২) বাগেরহাটের পাশে চিংড়ি ও সুপারি লেখা হয়েছে। রাইজিংবিডির এক ভ্রমণ প্রতিবেদনে (ডিসেম্বর ২০২৪) স্থানীয় সেয়াই পিঠা ও হাঁসের মাংস, চুইঝাল দিয়ে রান্না মাংস এবং চিংড়ির কথা আলাদা করে বলা হয়েছে।

চুইঝালের মাংস

চুই লতার কাণ্ড দিয়ে রান্না গরু, খাসি বা হাঁসের মাংস এ অঞ্চলের পরিচিত পদ। ঢাকা মেইলের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী জেলায় প্রায় ৩২ হেক্টর জমিতে চুইঝালের চাষ হচ্ছে এবং বাজারে আকার ও মানভেদে কেজি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। শহরের মিঠাপুকুর পাড়ের দ্য বে লিফ রেস্টুরেন্টের জানুয়ারি ২০২৫-এর মেনুতে চুই-গরুর মাংস ১৬০ টাকা ও চুই-খাসির মাংস ১৮০ টাকা ছিল; খানজাহান আলী রোডের দ্য অলিভ রেস্টুরেন্টের অনলাইন রিভিউতেও চুইঝালের গরুর মাংসের উল্লেখ পাওয়া যায়।

সেয়াই পিঠা আর হাঁসের মাংস

শীতের পিঠার মধ্যে সেয়াই (সেমাই) পিঠার সঙ্গে হাঁসের মাংস বাগেরহাটের পরিচিত খাবার। জানুয়ারি ২০২২-এ বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত পিঠা উৎসবে নারী উদ্যোক্তারা শিয়াই ও হাঁসের মাংস, সেমাই পিঠা, রসের পায়েস ও নারকেলের সন্দেশ এনেছিলেন। রাইজিংবিডির তথ্য অনুযায়ী খানজাহান আলী মাজার মোড় ও ষাটগম্বুজ মসজিদের আশপাশের হোটেলগুলোতে স্থানীয় খাবার পাওয়া যায়।

রাখালগাছির রসগোল্লা

সদর উপজেলার রাখালগাছি বাজারের রসগোল্লার কদর আছে। ২০২০ সালের এক ভিডিও প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজারের দুটি দোকানে খাঁটি দুধের ছানা দিয়ে রসগোল্লা তৈরি হয় এবং খুলনা-বাগেরহাট থেকে ক্রেতারা আসেন। কাছেই খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পাশে চুলকাঠী বাজারে শত বছরের পুরোনো দুধের হাট বসে (রাইজিংবিডি, এপ্রিল ২০২১)।

ষাটগম্বুজে গোলফল

সুন্দরবনের গোলগাছের ফল এখন বাগেরহাট সদর, চিতলমারী ও ফকিরহাটেও হয়। কার্তিক-অগ্রহায়ণে ফল হয়; ইত্তেফাকের জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদনে ষাটগম্বুজ মসজিদ এলাকায় প্রতিটি গোলফল ১০ টাকায় বিক্রির কথা বলা হয়েছে। শক্ত খোসার ভেতরের নরম শাঁস সামান্য লবণ-মিষ্টি দিয়ে খাওয়া হয়।

সুন্দরবনের মধু ও দুবলার চরের শুঁটকি

সুন্দরবনের মধুকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য করতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন ২০১৭ সালের ৭ আগস্ট আবেদন করেছিল; জুলাই ২০২৪-এ জানানো হয় আবেদনটি নিবন্ধনের জন্য জার্নালে প্রকাশের প্রক্রিয়ায় আছে। শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শুঁটকি মৌসুম চলে।

শহরে কোথায় বসে খাবেন

শহরের খানজাহান আলী রোড ও মিঠাপুকুর পাড় এলাকায় দ্য বে লিফ, দ্য অলিভ, গ্যালাক্সি ও ক্যাসেল আশারা; দশানীতে বাগেরহাট-খুলনা সড়কের পাশে ধানসিঁড়ি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট; শহীদ মিনার রোডের প্রেসক্লাব ভবনে ভূমি বুক ক্যাফে; আর ষাটগম্বুজ মসজিদ মোড়ে আপ্যায়ন রেস্টুরেন্ট রয়েছে। মিষ্টির জন্য রেলরোডের দোকানগুলো ও রাখালগাছি বাজার পরিচিত। মোংলায় বাসস্ট্যান্ডের কোস্টাল ক্যাফে ও বোট ঘাট রোডের হোটেলগুলোতে খাওয়া যায়। খোলার সময় বদলাতে পারে, তাই যাওয়ার আগে ফোনে নিশ্চিত হয়ে নিন।

তথ্যসূত্র

dbcnews.tv, risingbd.com, dhakamail.com, facebook.com, youtube.com, ittefaq.com.bd, tbsnews.net, ntvbd.com, prothomalo.com, restaurantguru.com