এক দিনে বাগেরহাটের মসজিদের শহর
১ অক্টোবর ২০২৬
১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো 'ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাট'-কে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় তোলে। পনের শতকে খানজাহান আলী (উলুঘ খানজাহান) প্রতিষ্ঠিত খলিফাতাবাদ শহরের টিকে থাকা মসজিদ, সমাধি ও দিঘিগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের হিসাবে পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ২.৫ কিমি ও উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৬ কিমি এলাকায় ছড়িয়ে আছে, তাই এক দিনেই মূল নিদর্শনগুলো দেখা যায়।
যাওয়ার আগে জেনে নিন: বন্ধের দিন ও সময়
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সময়সূচি অনুযায়ী রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ এবং সোমবার অর্ধদিবস। শীতকালে (১ অক্টোবর–৩১ মার্চ) মঙ্গল থেকে শনিবার সকাল ১০টা–বিকাল ৫টা, সোমবার দুপুর ১:৩০ থেকে খোলা; গ্রীষ্মকালে (এপ্রিল–সেপ্টেম্বর) মঙ্গল–শনি সকাল ১১টা–সন্ধ্যা ৬টা, সোমবার দুপুর ২:৩০ থেকে। প্রতিদিন দুপুর ১টা–১:৩০ বিরতি এবং শুক্রবার জুমার সময় বন্ধ থাকে। আঞ্চলিক দপ্তরের পাতায় কিছুটা ভিন্ন সময় লেখা আছে, তাই সম্ভব হলে কাস্টোডিয়ানের কার্যালয়ে (02479942233) জেনে নিন।
টিকিট
ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণ ও বাগেরহাট জাদুঘর একই টিকিটে: দেশি ৳৩০, সার্কভুক্ত দেশের পর্যটক ৳২০০, অন্যান্য বিদেশি ৳৫০০, মাধ্যমিক–উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী ৳১০; প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে, পাঁচ বছরের কম শিশুর টিকিট লাগে না। জানুয়ারি ২০২৬ থেকে মাইগভ ই-টিকিটিংয়ে (eticketing.mygov.bd) অনলাইনে কিউআর-কোড টিকিট কেনা যায়। গাড়ি পার্কিং: বাস ৳২৫০, কার/মাইক্রোবাস ৳৭০, মোটরসাইকেল ৳২০ (সঙ্গে ১৫% ভ্যাট)। অন্য মসজিদগুলোর আলাদা টিকিটের কোনো তথ্য সরকারি সূত্রে পাওয়া যায়নি।
সকাল: ষাটগম্বুজ এলাকা
১) ষাটগম্বুজ মসজিদ ও বাগেরহাট জাদুঘর — বাগেরহাট শহর থেকে প্রায় ৭ কিমি পশ্চিমে মহাসড়কের ষাটগম্বুজ বাসস্টপের পাশে। এন্ট্রি কমপ্লেক্স থেকে টিকিট নিয়ে ঢুকলে ডানে জাদুঘর, প্রায় ১৫০ মিটার উত্তর-পশ্চিমে ৮১ গম্বুজের মসজিদ।
২) সিংগাইর মসজিদ — ষাটগম্বুজের দক্ষিণ-পূর্বে রাস্তার পাশেই। ৩) ঘোড়া দিঘির পাড় ধরে প্রায় আধা কিমি পশ্চিমে বিবি বেগনী মসজিদ, তার অদূরে মগরা গ্রামে ধানক্ষেতের মাঝে চুনাখোলা মসজিদ। ৪) ফেরার পথে ষাটগম্বুজের প্রায় ২৫০–৩০০ মিটার উত্তরে খানজাহানের বসতভিটা প্রত্নস্থল ও প্রাচীন রাস্তা।
দুপুর–বিকেল: খানজাহান আলীর মাজার এলাকা
৫) মহাসড়ক ধরে প্রায় দেড় কিমি পূর্বে রণবিজয়পুর মসজিদ—দেশের সবচেয়ে বড় এক গম্বুজ মসজিদ। ৬) এর বিপরীত পাশে খানজাহান আলী (র.)-এর মাজার, পাশে পীর আলীর সমাধি ও এক গম্বুজ মসজিদ; দক্ষিণে ঠাকুর (খাঞ্জেলী) দিঘি। ৭) মাজার থেকে প্রায় ৩৫০ মিটার পশ্চিমে জিন্দাপীর মসজিদ ও রেজা খোদা মসজিদের ধ্বংসাবশেষ, আর ঠাকুর দিঘির পশ্চিম পাড়ে নয় গম্বুজ মসজিদ।
সময় থাকলে: মাজারের প্রায় দেড় কিমি উত্তর-পূর্বে নোনাডাঙ্গায় দশ গম্বুজ মসজিদের ধ্বংসাবশেষ, ষাটগম্বুজ থেকে প্রায় ৩ কিমি উত্তর-পূর্বে সাবেকডাঙ্গা পুরাকীর্তি, কিংবা প্রায় ৮ কিমি দূরে কোদলা (অযোধ্যা) মঠ।
কীভাবে যাবেন
খুলনা থেকে বাগেরহাটগামী বাস বা সিএনজিতে ষাটগম্বুজ স্টপে নামা যায় (প্রায় ১–১.৫ ঘণ্টা)। শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশায় ষাটগম্বুজ যাওয়া যায়; একটি ভ্রমণ সাইটে ভাড়া ৩০–৪০ টাকা উল্লেখ আছে, তবে আগে দরদাম করে নিন। ২০২৫ সালের ঈদের ছুটিতে ৫ দিনে প্রায় ৩১ হাজার দর্শনার্থী এসেছিলেন—ছুটির দিনে ভিড় এড়াতে সকালে যান।
তথ্যসূত্র
archaeology.gov.bd, archaeology.khulnadiv.gov.bd, archaeology.bagerhat.gov.bd, objectstorage.ap-dcc-gazipur-1.oraclecloud15.com, bssnews.net, tbsnews.net, en.wikipedia.org, vromonguide.com